শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

সাহিত্য

শিশুদের জাদুকর - তিনিই কবি নজরুল

রেহানা ফেরদৌসী

প্রকাশিত:
৮ জুলাই ২০২৫, ১৫:৩৩

কবি কাজী নজরুল ইসলাম মহাপুরুষ, মহাপ্রাণ, জন্মেছিলেন বলেই আমরা গর্ব করে বলতে পারি আমাদের একজন নজরুল ছিলেন। কবি বলেছিলেন, “আমি চিরতরে দূরে চলে যাবো, তবু আমারে দেবো না ভূলিতে।” সত্যি আমরা তাঁকে আজও ভুলতে পারিনি এবং তা কখনো সম্ভবও নয়। মাত্র ২৩ বছরে তিনি যে কীর্তি গড়েছেন, তা ভোলা যে দুরহ!

ছোটদের কবি কাজী নজরুল ইসলাম অনেক ভালোবাসতেন। ছোটদের নিয়ে ছড়া ও কবিতা লিখতেন।
“মায়ের কণ্ঠে প্রভাতী” ছড়া কবির দারুণ সৃষ্টি,। লিচুচোর আর কাঠবেড়ালী ছোটদের থাকে দৃষ্টি।
ছোটদের জন্য লিখেছেন হামদ ও নাত।
আরও আছে মিষ্টি গজল।

তবে অন‍্য দশটা শিশুর ন‍্যায় শৈশব আর কবি নজরুলের শৈশব এক রকম ছিল না। শৈশবকালীন নাম ছিল তার “দুখু মিয়া”। সারাটা জীবন পেয়েছেন নানা প্রবঞ্চনা-বঞ্চনা-নিপীড়ন। সীমাহীন দুঃখ দুর্দশায় জীবন ছিল বিপদ সংকুল। ছোট বেলা থেকে দুঃখে গড়া জীবনে পরিবারিক স্নেহ বন্ধনের শৈথিল্য, মায়ের সঙ্গে ক্রমাগত বিচ্ছিন্নতা তার কোমল হৃদয়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে। লড়াকু জীবনের সংগ্রামী চেতনার বীজ প্রোথিত হয়েছে ছোট থেকেই নানা ঘাত- প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে। এই চেতনা তাকে শিখিয়েছে কীভাবে বিপদে-আপদে দুঃখে সাহসী হতে হয়। সমাজ সংস্কারক, লড়াকু সৈনিক, ন্যায়ের মূর্ত প্রতীক, সৃষ্টিশীল, বহুমাত্রিক, প্রতিভার এসবই সাবলীল কিশোর কবির মধ্যে নিহিত ছিল। কবি নজরুলের কাব্যে স্থান পেয়েছে প্রজাপতির মতো হেসে খেলে-নেচে অবাধ বিচরণ করার বর্ণনা। চির রহস্যাবৃত মানবশিশু পৃথিবীতে আগমনের কৌতূহল ছোট শিশুর মধ্যে আলোড়িত করে সৃষ্টি করে অজানাকে জানার ব্যাকুলতা।

মা ও শিশুর কথোপকখন ছিল এমন-
‘মা গো! আমায় বলতে পারিস-
কোথায় ছিলাম আমি!
কোন না জানা দেশ থেকে তোর ...
কোলে এলাম নামি ?’

সন্তানের প্রশ্নের উত্তর মা দিলেন-
‘তুই যে আমার,
এই তো সেদিন ... আমার বুকে ছিলি!’
মা আরও বলেন-
‘মোদের বুকের কামনায় কি সুপ্ত ওরে
শিশু হয়ে এলি সকল ইচ্ছা মূর্তি ধরে।’

খোকার চোখে ঘুম নেই। তখন খোকাকে ঘুমের রাজ্যে নিয়ে যেতে ঘুম
পাড়ানো ছড়া শুনাতে হয়।
‘ঘুম পাড়ানি মাসি পিসি ঘুম দিয়ে যেয়ো
বাটা ভরে পান দেবো গাল ভরে খেয়ো
ঘুম আয়রে, ঘুম আয় ঘুম।’

এছাড়াও কবি নজরুল সুরে ছন্দে জাগরণী গীত রচনা করেছেন নান্দনিকভাবে -
‘ভোর হলো/ দোর খোলো/ খুকুমনি ওঠরে।’

কবি নজরুল গভীরভাবে হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেছেন, শিশু মন অত্যন্ত কোমল এবং কল্পনা বিলাসী। তাদের ইচ্ছাগুলো ডানা মেলে উড়ে বেড়ায় পাখির কলকাকলির স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের ন্যায় প্রকাশ বিকাশের মধ্যে দিয়ে ...
‘আমি হব সকাল বেলার পাখি/ সবার আগে কুসুম বাগে/ উঠবো আমি ডাকি।’

নতুনকে আলিঙ্গন, সীমানা প্রাচীর ভেঙে বিশ্ব জয়ের প্রবল ইচ্ছশক্তির বহিঃপ্রকাশ, অজানাকে জানার ইচ্ছে শিশুর চিরায়ত বৈশিষ্ট্য। কবি ফুটিয়ে তুলেছেন কবিতায় এভাবে -
‘থাকবো নাকো বদ্ধ ঘরে/ দেখবো এবার জগৎটাকে। কেমন করে ঘুরছে মানুষ/যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে।’

শিশুর মধ্যে কবি নজরুল ভবিষ্যতের সমূহ সম্ভাবনার বিষয়টি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে খেয়াল করেছেন এবং কবি শিশুদের মধ্যে প্রতিভা বিকাশ ভাবনার বিষয়টি সুন্দরভাবে প্রকাশ করেছেন এইভাবে-
‘আমি চেয়ে আছি তোদের পানে রে ওরে ও শিশুর দল,
নতুন সূর্য আসিছে কোথায় বিদারিয়া নভোতল।’

শিশুদের আত্মবিশ্বাসী আশাবাদী স্বপ্ন সাধনার সারথি হিসেবে গড়ে তুললে, নতুন উদ্দীপনায় নব দিগন্তের দ্বার উন্মোচনের পথ মসৃণ হবে।

কবি নজরুলই সর্বপ্রথম শিশু সাহিত্যিকে সাহিত্যের দরবারে সার্থক রূপায়নের ব্রত নিয়ে রচনা করেছেন অনবদ্য সৃষ্টি। শিশুর প্রতি ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা, আলোকিত সমাজ বিনির্মাণের চিন্তার জায়গা থেকে কবি নজরুল বাংলা শিশু- সাহিত্যকে করেছেন সমৃদ্ধ।

ছোটদের কাছে তিনি এক জাদুকর- তিনিই কবি নজরুল

লেখক: সহ সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ,
পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (কেন্দ্রীয় পুনাক) মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

 

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর