বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
  • গুম-খুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে করা হবে : র‍্যাব ডিজি
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি এখনো
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া : বিএনপি
  • ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় চমক’ আছে, সতর্কতা ইরানের
  • কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • আমেরিকা-চীন-রাশিয়া: পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

নেতানিয়াহুর সরকার ছাড়ছে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী দল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
১৫ জুলাই ২০২৫, ১৬:২৩

ইসরায়েলের কট্টরপন্থী দল ইউনাইটেড তোরা জুডাইয়াজম (ইউটিজে) প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট সরকার থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে নেতানিয়াহুর সরকার টিকে থাকা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইউটিজের সাত সদস্যের মধ্যে ছয়জনই সোমবার রাতে সংসদ সদস্য (নেসেট) পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

দলটির চেয়ারম্যান ইতজাক গোল্ডনফ এক মাস আগেই পদত্যাগ করেন। তার মুখপাত্র নিশ্চিত করেন, ইউটিজের সব সদস্যই এখন সরকার থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।

ইউটিজে দুটি অংশ নিয়ে গঠিত—ডেগেল হা’তোরা ও আগুদাত ইসরায়েল। ডেগেল হা’তোরা জানিয়েছে, তাদের প্রধান ধর্মীয় নেতা ডভ ল্যান্ডোর নির্দেশ অনুযায়ীই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এক বিবৃতিতে তারা জানায়, সরকার বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে, যা ছিল ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অব্যাহতি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি। তাই দলের সংসদ সদস্যরা জোট ও সরকার থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

এই পদক্ষেপের ফলে ১২০ আসনের কনেসেটে নেতানিয়াহুর সংখ্যাগরিষ্ঠতা দাঁড়াবে মাত্র ৬১টি আসনে, অর্থাৎ সরকার থাকবে একেবারে টিকে থাকার সীমারেখায়।

তবে অপর কট্টরপন্থী দল শাস-ও জোট ছাড়বে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

কট্টরপন্থী আইনপ্রণেতারা অনেক দিন ধরেই সামরিক নিয়োগবিষয়ক বিতর্কিত বিল নিয়ে সরকার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তারা দাবি করেন, ইয়েশিভা বা ধর্মীয় সেমিনারিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতির প্রতিশ্রুতি তাদের সঙ্গে জোট চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

গত জুনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে নেতানিয়াহুর জোট অল্পের জন্য টিকে যায়। তখন কট্টরপন্থী দলগুলোর সঙ্গে একটি আপসের মাধ্যমে বিলটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়।

ইসরায়েলে সেনাবাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক হলেও কট্টরপন্থী ইহুদি তরুণদের দীর্ঘদিন ধরে ছাড় দেওয়া হতো। কিন্তু গত বছর সর্বোচ্চ আদালত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়—এই অনিয়ম বন্ধ করে ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদেরও নিয়োগ দিতে হবে।

নেতানিয়াহু নিজেও নতুন সেনা নিয়োগ বিল নিয়ে সমস্যার সমাধানে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে তার দল লিকুদ থেকে এসেছে ব্যাপক চাপ—যাতে আরও কট্টরপন্থী তরুণদের সেনাবাহিনীতে নেওয়া হয় এবং নিয়োগ এড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এই চাপে নতুন করে সংকটে পড়ে শাস দলও, যারা দাবি করছে—তাদের সদস্যদের স্থায়ীভাবে সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতির নিশ্চয়তা দিতে হবে।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে গঠিত নেতানিয়াহুর বর্তমান জোট সরকারকে ইসরায়েলের ইতিহাসে অন্যতম ডানপন্থী ও কট্টরপন্থী সরকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর