প্রকাশিত:
৭ আগষ্ট ২০২৫, ১৫:২৪
ফ্রান্স ও আলজেরিয়ার মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে ফ্রান্সে বসবাসরত কাগজপত্রবিহীন আলজেরীয় অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
বুধবার (৬ আগষ্ট) আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বায়রুর উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন ফ্রান্সে বসবাসরত কাগজপত্রবিহীন আলজেরীয় অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
চিঠিতে ম্যাক্রোঁ আরও উল্লেখ করেছেন, ২০১৩ সালে ফ্রান্স ও আলজেরিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের ভিসা অব্যাহতি সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
ম্যাক্রোঁর এই কড়া অবস্থানের পেছনে রয়েছে আলজেরিয়ায় ফরাসি নাগরিক ও লেখক বুলায়েম সানসাল এবং সাংবাদিক ক্রিস্টোফ গ্লেইজের গ্রেফতার ও দণ্ডিত হওয়ার ঘটনা। সন্ত্রাসবাদ ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তাদের যথাক্রমে পাঁচ ও সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ একে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, ফ্রান্সে থাকা আলজেরীয় কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের দ্রুত শনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি, শেঙ্গেন ভিসা নীতিতে আলজেরীয়দের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপের নির্দেশনাও দেন তিনি। এ ছাড়া আলজেরীয় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য থাকা ভিসা সুবিধা বাতিল করার কথাও বলেন ম্যাক্রোঁ।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ফ্রান্সে বসবাসরত অনেক আলজেরীয় অভিবাসীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে যাদের কাগজপত্র নেই বা যাদের রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন প্রক্রিয়াধীন।
উল্লেখ্য, অতীতেও ফ্রান্স-আলজেরিয়ার সম্পর্ক নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। ২০২১ সালে ফ্রান্স আলজেরীয় নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার হার কমিয়ে দেয়, কারণ আলজেরিয়া তার নিজ দেশের অননুমোদিত অভিবাসীদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এবার গ্রেফতারের ঘটনার পর সেই টানাপোড়েন আরও গভীর হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপে পড়েই ফরাসি প্রেসিডেন্ট এ ধরনের কড়া অবস্থান নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ এটিকে আলজেরিয়ার ওপর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবেও দেখছেন।
মন্তব্য করুন: