প্রকাশিত:
১৭ আগষ্ট ২০২৫, ১৩:০৬
আমরা জানি, সব ফলই স্বাস্থ্যকর। এগুলো আমাদের ফাইবার ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন দেয়। এটি যেমন সত্য, তেমনি প্রি-ডায়াবেটিক ও ডায়াবেটিকদের জন্যও কিন্তু সব ফল উপকারী নয়। উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) সম্পন্ন কিছু ফল রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে এবং ক্ষতিকর হতে পারে।
তবে কি ডায়াবেটিক বা প্রি-ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য সব ফল নিষিদ্ধ করা উচিত? উত্তর হচ্ছে—না। সব ফল ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ক্ষতিকর নয়। কিছু ফল থেকে ডায়াবেটিক রোগীদের দূরে থাকা উচিত। এর বিকল্প হিসেবে অন্য ফল খাওয়া যেতে পারে।
চলুন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাক—
ডায়াবেটিক রোগীরা যেসব ফল এড়িয়ে যাবেন
আম
আমে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ অনেক বেশি—প্রধানত গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ। একটি মাঝারি আকারের আমে প্রায় ৪০-৪৫ গ্রাম চিনি থাকতে পারে। এই ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সাধারণত মাঝারি থেকে উচ্চ (৫১-৬০)। এর মানে, আম দ্রুত রক্তের শর্করা বাড়াতে পারে।
এ ছাড়া আমে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফাইবার না থাকার কারণে শরীরের পক্ষে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ভালো বিকল্প : আমের ভালো বিকল্প হতে পারে, বেরি জাতীয় ফল, যেমন ব্লুবেরি ও স্ট্রবেরি। কারণ এগুলোর চিনি কম (১০০ গ্রাম স্ট্রবেরিতে প্রায় ৪.৯ গ্রাম চিনি) এবং ফাইবার বেশি। এগুলো অ্যান্টি-অক্সিডেন্টেও সমৃদ্ধ এবং বেশি স্যাচিয়েটিং (ভরবোধ দেয়)।
পাকা কলা
কলা পাকার সঙ্গে সঙ্গে এর স্টার্চ চিনিতে বদলায়।
একটি মাঝারি পাকা কলার জিআই সাধারণত ৬০-এর ওপরে চলে যায়। ফলে এগুলো আরো মিষ্টি হয়ে রক্তের শর্করা বাড়াতে বেশি সক্ষম হয়, বিশেষত যদি একা খাওয়া হয়। কলায় প্রোটিন ও চর্বি কম থাকায় একা খেলে গ্লুকোজ স্পাইক নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়। এ ছাড়া কলায় কার্বোহাইড্রেট প্রচুর, যা কার্ব নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য অসুবিধা হতে পারে।
ভালো বিকল্প : পেয়ারায় চিনি কম (১০০ গ্রামে প্রায় ৫ গ্রাম চিনি) এবং জিআই অপেক্ষাকৃত কম। এ ফল ফাইবারে ও ভিটামিন সি-তে সমৃদ্ধ, তাই এটি কলার স্বাস্থ্যকর বিকল্প।
চিকু
চিকুতে অত্যন্ত বেশি চিনি থাকে (১০০ গ্রামে প্রায় ২০ গ্রাম চিনি), এবং জিআই প্রায় ৬৫-৭০। এর মানে এই ফল দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে, বিশেষত যদি একা খাওয়া হয়। চিকুতে ফাইবার কম থাকায় খাওয়ার পর রক্তের শর্করা সামলানো কঠিন।
ভালো বিকল্প : আপেলে (বিশেষত ছালসহ খেলে) চিনি ও জিআই তুলনামূলকভাবে কম, এবং ফাইবার বেশি, যা রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
আঙুর
১০০ গ্রাম আঙুরে প্রায় ১৬-১৮ গ্রাম চিনি থাকে এবং জিআই প্রায় ৫০-৫৯। এর ফলে অল্প পরিমাণ খেয়েও রক্তের শর্করা দ্রুত বাড়তে পারে। আঙুরের খোসা পাতলা এবং ফাইবার কম। ফলে খাওয়ার পর শরীর গ্লুকোজ স্পাইক নিয়ন্ত্রণে অক্ষম হতে পারে।
ভালো বিকল্প : আনারস, যার চিনি তুলনামূলকভাবে কম এবং জিআই কম। এটি পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, যা প্রদাহ কমাতে ও ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
আনারস
পরিপাক অবস্থার ওপর নির্ভর করে একটি মাঝারি আকারের আনারসে চিনি ও জিআই উঁচু হতে পারে (জিআই প্রায় ৬৬-৯৪)। এর ফলে আনারস দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে। যদিও এতে কিছু ফাইবার আছে, তা একা খেলে বা বেশি পরিমাণে খেলে শর্করা শোষণ কমাতে যথেষ্ট নয়।
ভালো বিকল্প : পেঁপেতে চিনি ও জিআই কম, ফলে শরীর ধীরে ধীরে শর্করা গ্রহণ করে এবং গ্লুকোজ প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয়। এটি ফাইবারে সমৃদ্ধ, হজমে সহায়ক এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে পারে। ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ হওয়ায় শারীরিক অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে ইমিউন সাপোর্টে সাহায্য করে।
মন্তব্য করুন: