শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন রেদওয়ান

মোসলেউদ্দিন (ইমরান মুন্সী),ভাঙ্গা, ফরিদপুর

প্রকাশিত:
১৮ আগষ্ট ২০২৫, ১৫:৩৯

বন্ধুত্বের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন রেদওয়ান। ফিরে এসেছেন লাশ হয়ে। পানি আর কাদার স্তূপে মুখ থুবড়ে পড়ে ছিল তার নিথর দেহ। যাকে বন্ধু ভেবেছিলেন, সেই জহুরুলই তার মৃত্যু ফাঁদ পেতে রেখেছিলেন।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের চাড়ালদিয়া গ্রামে। নিহত রেদওয়ান (২৫) সদরপুর উপজেলার বাইশরশি গ্রামের সৌদি প্রবাসী আবু বক্কর সোহেলের ছেলে।

ঘাতক জহুরুল মুন্সী (২৬) তুজারপুর ইউনিয়নের চাড়ালদিয়া গ্রামের লোকমান মুন্সীর ছেলে।

জানা যায়, মাদ্রাসা জীবন থেকেই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল রেদওয়ান ও জহুরুল। এক সময় রেদওয়ানের আইফোন মাদ্রাসা থেকে চুরি হয়ে যায়। পরে থানায় অভিযোগ করার পর ফোনটি উদ্ধার হয় জহুরুলের কাছ থেকে। তখন থেকেই জহুরুলের মনে জন্ম নেয় গোপন ক্ষোভ।

বছরের পর বছর কেটে গেলেও সেই রাগ ও অপমান সে ভুলে যায়নি।

গত বুধবার (১৩ আগস্ট) পরিকল্পিতভাবে রেদওয়ানকে ফোন করে নিজ বাড়িতে ডেকে নেয় জহুরুল। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে রাতে ঘরের ভেতরেই কৌশলে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে রেদওয়ানকে। হত্যার পর লাশ গুম করতে বালির বস্তা ও জিআই তার দিয়ে বেঁধে বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলে দেয়।

পরদিন (১৪ আগস্ট) রেদওয়ানের মা রাবেয়া বেগম ছেলের নিখোঁজের বিষয়ে সদরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। চার দিন পর, ১৭ আগস্ট চাড়ালদিয়া বিলে একটি লাশ ভেসে উঠতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পরে দাড়ি দেখে পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করেন রেদওয়ানের লাশ।

র‍্যাব-১০ এর একটি টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জহুরুলকে আটক করে। র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সে খুনের কথা স্বীকার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে রেদওয়ানের মানিব্যাগ, জামাকাপড় ও খুনে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার তরিকুল ইসলাম জানান, “সামান্য বিরোধ থেকে এ হত্যাকাণ্ড। জহুরুল একাই পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছে বলে স্বীকার করেছে।”

১৮ আগস্ট রাতে ভাঙ্গা থানায় অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে রেদওয়ানের মা হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রামপ্রসাদ।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর