শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

দুর্ঘটনার ঝুঁকি

চকরিয়া কক্সবাজার মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে ২০টি স্থানে বালুর ব্যবসা

সাদ্দাম হোসাইন, চকরিয়া (কক্সবাজার)

প্রকাশিত:
২৬ আগষ্ট ২০২৫, ১৭:০২

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় অন্তত ২০টি স্থানে মহাসড়ক ঘেঁষে চলছে বালুর ব্যবসা। এতে ওই এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।

মহাসড়কের পাশে বালুর স্তূপ। সেখানেই চলছে বালু বেচাকেনা। বালু নিতে আসা ট্রাক-পিকআপ ভ্যানের কারণে প্রায়ই যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে মহাসড়কে। গতকাল সোমবার এমনই চিত্র দেখা যায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার হারবাংয়ের গয়ালমারা অংশে।

শুধু গয়ালমারা নয়, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় অন্তত ২০টি স্থানে মহাসড়ক ঘেঁষে চলছে বালুর ব্যবসা। এতে ওই এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।

চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের গয়ালমারা এলাকায় মহাসড়কের পাশে বালুর ব্যবসা করছেন নাজিম উদ্দিন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি। জানতে চাইলে নাজিম উদ্দীন বলেন, নিলামে এসব বালু তিনি কিনেছেন। বিক্রির সুবিধার জন্য মহাসড়কের পাশে রেখেছেন। । এর বাইরে খোঁজাখুঁজি করেও আর কোনো সুবিধাজনক স্থানের সন্ধান পাননি।

সরেজমিনে গয়ালমারা ছাড়াও উপজেলার বরইতলী, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা ও খুটাখালী এলাকায় মহাসড়কের দুই পাশে বালুর ব্যবসা করতে দেখা যায়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা বলেন, বালুর স্তূপ থেকে হুট করেই হঠাৎ মহাসড়কে গাড়ি উঠে যায়। এতে মহাসড়কে কখনো কখনো যানজট তৈরি হয়। মহাসড়কের পাশ দিয়ে হাঁটতে স্থানীয় বাসিন্দারাও ভোগান্তিতে পড়েন।

খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, এভাবে সড়কের পাশে বালুর ব্যবসা করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে; কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

চকরিয়া উপজেলার চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ‘মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে এমনভাবে বালুর স্তূপ রাখা হয়েছে মহাসড়কের অন্য পাশ থেকে গাড়ি এলে দেখাও যায় না। গত পাঁচ মাসে অন্তত তিনটি দুর্ঘটনা ঘটেছে এই বালু ব্যবসার কারণে। যাঁরা বালুর ব্যবসা করছে আমরা অনেকবার তাঁদের নিষেধ করেছি; কিন্তু তাঁরা বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চকরিয়া উপজেলার সভাপতি সোহেল মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক তুলনামূলক সরু। যানবাহনের চাপ সব সময় থাকে। মহাসড়কের চকরিয়া অংশে বেশ কিছু বাঁক রয়েছে, যেখানে দুর্ঘটনা বেশি হয়। বালুর ব্যবসার কারণে এখন ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। এভাবে মহাসড়কের পাশে বালুর স্তূপ রাখা কিছুতেই কাম্য নয়।

জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপায়ণ দেব বলেন, ‘মহাসড়কের পাশে বালু রেখে ব্যবসা করা অবশ্যই গর্হিত কাজ। সড়ক ও জনপথ বিভাগ তা সরানোর উদ্যোগ নিলে উপজেলা প্রশাসন অবশ্যই সঙ্গে থাকবে।’

কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী বলেন, বালু ব্যবসায়ীদের মৌখিক ও লিখিতভাবে সতর্ক করা হলেও তাঁরা সরে যাচ্ছেন না। শিগগিরই এসব বালুর স্তূপ উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর