বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
  • গুম-খুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে করা হবে : র‍্যাব ডিজি
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি এখনো
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া : বিএনপি
  • ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় চমক’ আছে, সতর্কতা ইরানের
  • কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • আমেরিকা-চীন-রাশিয়া: পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

সোনারগাঁয়ের ঐতিহাসিক নিদর্শন গোয়ালদী মসজিদ : ইসলামী স্থাপত্যের উজ্জ্বল সাক্ষ্য

রাসেল হোসাইন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

প্রকাশিত:
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪:৩৩

মুঘল আমলে রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরের পূর্বে সোনারগাঁ ছিল বাংলার অন্যতম রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। বার ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খান ও মুসা খানের শাসনকালসহ স্বাধীন সুলতানদের সময় সোনারগাঁও ছিল এক সমৃদ্ধ রাজধানী। এই রাজধানী শহর কেবল রাজনৈতিক দিক থেকেই নয়, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থাপত্যেও সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছিল। মুসলিম শাসকগণ এখানে রাজপ্রাসাদ ও রাজসভা ছাড়াও নির্মাণ করেছিলেন বহু মসজিদ, খানকা ও সমাধি।

তন্মধ্যে মোগড়াপাড়ায় অবস্থিত সুলতান গিয়াস উদ্দীন আজম শাহের প্রস্তরনির্মিত সমাধি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অপরদিকে সোনারগাঁয়ের আরেক উল্লেখযোগ্য প্রাচীন নিদর্শন হলো গোয়ালদি গ্রামে অবস্থিত এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ, যা মোল্লা হিজবার আকবর খান কর্তৃক ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত। এই মসজিদটি সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহের শাসনামলের (১৪১৩–১৫১৯ খ্রি.) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।

মসজিদের ভেতর ও বাইরের দেয়ালে ইট ও পাথরের উপর খোদাই করা আরবি লিপি ও অলংকরণ ইসলামি স্থাপত্যকলার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত। পশ্চিম দেয়ালের বিশেষত মিহরাবে এখনো প্রস্তর খচিত কারুকার্যের নিদর্শন পাওয়া যায়। কেন্দ্রীয় মিহরাবটি কালো প্রস্তরে নির্মিত এবং এর শৈল্পিক সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

প্রাচীন এই মসজিদটি অনেকটা পরিত্যক্ত হয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তখন সংলগ্ন উত্তর দিকে অবস্থিত আরেকটি এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদে নামাজ আদায় শুরু করে। ঐ মসজিদের দেয়ালে বিদ্যমান শিলালিপি থেকে জানা যায়, এটি আবদুল হামিদ কর্তৃক হিজরী ১১১৬ সালে (১৭০৫ খ্রিস্টাব্দে) নির্মিত হয়েছিল।

ঐতিহাসিক গোয়ালদি মসজিদকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ১৯৬৩ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক আইনের আওতায় সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে। পরবর্তীতে এর ধ্বংসপ্রাপ্ত অংশ পুনরুদ্ধার ও প্রয়োজনীয় মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে মসজিদটি ঐতিহ্যবাহী ইসলামী স্থাপত্যশৈলীর উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে সোনারগাঁয়ের গৌরব বয়ে চলেছে।

সোনারগাঁয়ের এইসব স্থাপত্যকীর্তি শুধু বাংলার ইসলামী ঐতিহ্যের সাক্ষ্য নয়, বরং এ অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক অমূল্য সম্পদ হিসেবেও বিবেচিত হয়।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর