শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের হেফাজতে যুবকের মৃত্যু, এসআই কারাগারে

মোঃ সুজন সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত:
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪:৩৮

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পুলিশের হেফাজতে চারদিন নির্যাতনের পর মো. আব্দুল্লাহ (২৭) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মহিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আব্দুল্লাহ বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা।

পরিবারের অভিযোগ, গত ২৩ সেপ্টেম্বর নবীনগরের সলিমগঞ্জ বাজার থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ী তবি মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন লোক আব্দুল্লাহকে আটক করে। তবি মিয়া অভিযোগ করেন, তার বাড়ি থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকারও বেশি চুরি হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজে দেখা চোরকে তারা আব্দুল্লাহ বলে শনাক্ত করেন।

সাক্ষীদের ভাষ্য, বাজারে মারধরের পর আব্দুল্লাহকে তবি মিয়ার বাড়িতে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সলিমগঞ্জ অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়, যেখানে দায়িত্বে ছিলেন এসআই মহিম উদ্দিন।

পরিবার ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়ার পর আদালতে না পাঠিয়ে আরও ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়। তার নখ চিমটা দিয়ে উপড়ে ফেলা, কপালের চামড়া ছিঁড়ে ফেলা এবং শরীরে ধারালো বস্তু ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। রবিবার বিকালে অবস্থা অবনতির পর তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর সোমবার সকালে উত্তেজিত জনতা পুলিশ ক্যাম্প ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।

নিহতের বড় ভাই শাকিল মিয়া নবীনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এসআই মহিম উদ্দিন, তবি মিয়া, আল আমিন, আইনাল হকসহ অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার ইহতেশামুল হক জানিয়েছেন, আব্দুল্লাহকে অবৈধভাবে পুলিশ ক্যাম্পে আটকে নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি স্পষ্ট অপরাধ। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে কোনোভাবেই রক্ষা করা হবে না।”

মৃতদেহে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। কপাল, দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি।

আব্দুল্লাহর মা জোৎস্না বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে যদি অপরাধ করে থাকে, আদালতে বিচার হতো। কিন্তু কেন তাকে এমন নির্যাতনে মরতে হলো?”




মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর