প্রকাশিত:
২ অক্টোবর ২০২৫, ১২:১৭
দ্বীপরাষ্ট্র ফিলিপাইনে গত মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে আঘাত হানা ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সামনে আসছে। বেড়ে চলেছে মৃতের সংখ্যা।
মূল ভূমিকম্পের পর দুই শতাধিক আফটারশক বা পরাঘাত সেখানে অনুভূত হয়েছে।
ম্যানিলার সিভিল ডিফেন্স অফিসের (ওসিডি) বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে কমপক্ষে ৬৯ জন নিহত এবং শত শত মানুষের আহত হওয়ার খবর মিলেছে।
ওসিডির ডেপুটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বার্নার্ডো আলেজান্দ্রো বলেন, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন বোগো সিটির। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের সবচেয়ে কাছে অবস্থিত এই শহর। এছাড়া সান রেমিহিওতে ২২ জন, মেডেলিনে ১০ জন, টুবোগনে পাঁচজন এবং সোগোদ ও তাবুয়েলান শহরে একজন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এখন পর্যন্ত কতজন নিখোঁজ তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। তবে উদ্ধারকারীরা ধসে পড়া বিভিন্ন স্থাপনা ও কাঠামোর ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। সংবাদমাধ্যম বলছে, অসংখ্য ঘরবাড়ি ও পুরাতন গির্জা ধসে পড়েছে, সেতু ও যানবাহন ভেঙে পড়েছে।
খবর অনুসারে, মঙ্গলবার রাত ১২টার কিছু আগে ভূমিকম্পটি ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত সেবু দ্বীপের উত্তর প্রান্তে আঘাত হানে। এই অঞ্চলটি ভিসায়াস দ্বীপপুঞ্জ নামেও পরিচিত। সেখানে প্রায় ৩২ লাখ মানুষ বসবাস করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা-ইউএসজিএস ভূমিকম্পের গভীরতা ১০ কিলোমিটার নিচে ছিল বলে রেকর্ড করে। এই অঞ্চলে একাধিক আফটারশকও রেকর্ড করেছে তারা।
ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির একজন কর্মকর্তার মতে, মঙ্গলবার রাতে সেবুতে আঘাত হানা ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পটি মাটির নিচের এমন একটি ফাটলের কারণে হয়ে থাকতে পারে, যা গত ৪০০ বছরে কোনো শক্তিশালী কম্পন সৃষ্টি করেনি।
ইনস্টিটিউটের ভূমিকম্প পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান উইঞ্চেল ইয়ান সেভিলা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘অন্তত ৪০০ বছরে এই প্রথম এই ভূমিকম্প সৃষ্টিকারী ফাটলটি সরে গেলো। সেই কারণেই এটি বেশ শক্তিশালী ছিল। ’
ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির তথ্য অনুসারে, বুধবার সকাল ৯টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত কমপক্ষে ২২৫টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার বেশিরভাগই বোগো সিটিতে আঘাত হেনেছে।
মন্তব্য করুন: