প্রকাশিত:
৭ অক্টোবর ২০২৫, ১৬:২৫
নান্দনিক পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের আদলে চাক্তাই-কালুরঘাট আউটার রিং রোড প্রকল্পে কর্ণফুলীর তীরঘেঁষে গড়ে উঠছে নান্দনিক বিনোদন কেন্দ্র। সাপ্তাহিক বন্ধের দিন বা অন্যান্য দিনগুলোতে পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে থাকে আউটার রিং রোড। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) এর প্রকল্পটির ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ। নগরীর যান চলাচলে গতি আনা, পিছিয়ে থাকা এলাকার জীবনমান উন্নয়ন, পর্যটন এবং আবাসনসহ সার্বিক ক্ষেত্রে শহর রক্ষা বাঁধের কথা মাথায় রেখে চাক্তাই থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্প-২ বাস্তবায়ন করছে চউক। প্রকল্পটি পুরোপুরি শেষ হলে পিছিয়ে থাকা এলাকা যেমন উন্নত হবে, তেমনি দর্শনার্থীদের জন্য হবে বিনোদনের ব্যবস্থা।
তবে প্রকল্পটির পুরোপুরি কাজ শেষ হওয়ার আগেই কল্পলোক আবাসিকের পেছনের অংশে কর্ণফুলী নদীর তীরঘেঁষে এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে বেড়িবাঁধ, ব্লক নির্মাণের ফলে কর্ণফুলীর অপার সৌন্দার্য এখানে দাঁড়িয়ে এবং বসে উপভোগ করা যায়। নদীর পারে নির্মিত বেড়িবাঁধ ও ব্লকগুলো এখানকার সৌন্দর্যকে দ্বিগুণ করে তুলেছে। দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে স্থানটি। বিকেল হলেই নদীর পাড়ে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও প্রিয়জনকে নিয়ে সৌন্দর্য দেখতে ছুটে আসছেন পর্যটকরা।
এদিকে মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র ৮ মাস বাকি থাকলেও এখনও প্রকল্পটির ১৫ শতাংশ কাজ বাকি। যদিও কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের অক্টোবরে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ২ হাজার ২৭৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। পরে প্রথম ও দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রকল্প ব্যয় বাড়ানোর পর সর্বশেষ ব্যয় দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৭৯ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।
চউক সূত্রে জানা গেছে, নগরের কালুরঘাট থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার বিস্তৃত সড়কটির প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আর আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৭৯ শতাংশ। সাড়ে ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রাস্তা ও বাঁধের মধ্যে ৭ কিলোমিটারের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাকি দেড় কিলোমিটার সড়কের ভূমি ক্রয় প্রক্রিয়া চলমান আছে। এরইমধ্যে রাস্তার কার্পেটিং শুরু হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০ ফুট উচ্চতার ৪ লেনের সড়ক কাম শহর রক্ষা বাঁধে বর্ষায় নগরের পানি নিষ্কাশনের জন্য ১২টি স্লুইসগেট রয়েছে। এসব স্লুইসগেটের ১০টির নির্মাণকাজ শেষ। এখন চলছে মাটি ভরাটের কাজ। এছাড়া প্রতিটি স্লুইসগেটের জন্য বসানো হচ্ছে পাম্প। ৮টি পাম্প বসানো হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক রাজিব দাশ জানান, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কর্ণফুলী নদীর আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠবে আবাসন, বাণিজ্য ও পর্যটনশিল্প। পাল্টে যাবে বাকলিয়া, চান্দগাঁও ও মোহরা এলাকার দৃশ্যপট। অল্প সময়ের মধ্যে কালুরঘাট থেকে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করা যাবে। সময়ের প্রয়োজনে ও বাস্তবতার নিরিখে প্রকল্পে বারবার পরিবর্তন আনতে হয়েছে। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ খাতে টাকা ছাড় জটিলতায় প্রকল্পের কাজ সময়মত শেষ করা যায়নি। তাই সময় বাড়ানো হয়েছিল। বর্তমানে যে কাজ বাকি রয়েছে তা পরবর্তীতে সময়ের মধ্যে শেষ করা যাবে।
মন্তব্য করুন: