প্রকাশিত:
৮ অক্টোবর ২০২৫, ১৫:৪৫
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে নৌযানে চাঁদাবাজি ঠেকাতে গিয়ে পুলিশ ও চাঁদাবাজদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার মেঘনা নদীর নুনেরটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার নলচর গ্রামের বারেকের নেতৃত্বে তার ছেলে মহসিন, হাসনাত, রানা ও সাজ্জাদসহ ২০–৩০ জনের একটি চাঁদাবাজ চক্র দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদীতে চলাচলরত বালু ও মালবাহী নৌযান থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছে।
বিকেলে বারেকের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা টেটা, বল্লম ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নুনেরটেক এলাকায় কয়েকটি নৌযান থেকে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মেসার্স আমানুল্লাহ বাল্কহেডের শ্রমিক মহিবুল্লাহ ও জাকারিয়াকে মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে তারা।
খবর পেয়ে বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ও চালিভাঙ্গা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা যৌথভাবে ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। এসময় চাঁদাবাজরা পুলিশের ওপর টেটা, বল্লম ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে তিন পুলিশ সদস্য রক্তাক্ত আহত হন। পরে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ সদস্যরা রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় বারেকের ছেলে রানা ও সাজ্জাদকে আটক করে পুলিশ।
আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে গুরুতর আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহাবুবুর রহমান বলেন,চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের বহু অভিযোগ ছিল। খবর পেয়ে আমরা অভিযান চালালে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। আমাদের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। আত্মরক্ষার্থে আমরা রাবার বুলেট ছুড়েছি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়েছে, অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
তিনি আরও বলেন,মেঘনা নদীতে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। নৌযান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল ও অভিযান জোরদার করা হবে।”
মন্তব্য করুন: