শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

ভূমিদস্যুদের থাবায় সরাইলের আকাশী হাওর, টিকে থাকা কঠিন জীববৈচিত্র্যের

মোঃ সুজন সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত:
১৩ অক্টোবর ২০২৫, ১৩:২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার প্রাকৃতিক জলাধার ধরন্তি বিল (স্থানীয়ভাবে আকাশী হাওর নামে পরিচিত) অবৈধভাবে ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অমান্য করে একদল ভূমিদস্যু দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমি ও জলাভূমি ভরাট করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘তরী বাংলাদেশ’ এ ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।

সম্প্রতি তরী বাংলাদেশের একটি পরিদর্শন টিম সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পায়, হাওরের বিভিন্ন অংশে ট্রাক ও ডাম্পারযোগে বালু ও ইট ফেলে ভরাট কাজ চলছে। এতে হাওরের প্রাণপ্রবাহ, জীববৈচিত্র্য এবং কৃষিনির্ভর জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী, হাওর, বিল, জলাশয় ও কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। অথচ সরাইলের এই এলাকায় কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই ভরাট কার্যক্রম চলছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ বলেন, “এটি শুধু হাওরের পরিবেশ ধ্বংস নয়, এটি জীববৈচিত্র্যের ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা পরিবেশ অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখা এবং সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি—এই অবৈধ কার্যক্রম দ্রুত বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

তিনি আরও বলেন, ধরন্তি বিল এলাকায় বিপুলসংখ্যক জলচর পাখি, মাছ এবং কৃষিজ ফসল নির্ভর জীবিকা রয়েছে। জলাধার ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ বা প্লট তৈরি করা হলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এলাকাবাসী জানায়, আগে এই হাওরে বর্ষাকালে মাছ ধরা, পাখি দেখা ও কৃষিকাজে ব্যস্ততা দেখা যেত। এখন সেখানে বালু ও ইটবাহী ট্রাকের চলাচল বেড়েছে, যা হাওরের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তরী বাংলাদেশ ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, অবিলম্বে ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং হাওর সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, শীত মৌসুমে এই হাওরে অবৈধভাবে মাটি কাটার ঘটনাও ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরাই এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত।




মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর