প্রকাশিত:
২১ অক্টোবর ২০২৫, ১৭:২৮
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রাম এখনো কাঁপছে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) গভীর রাতের সেই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিতে। যেভাবে দূর সম্পর্কের ভাতিজাকে জবাই করে হত্যা করেছে এক বিকৃত মনের মানুষ, তাতে চমকে উঠেছে পুরো গ্রামবাসী।
নিহত উমর হাসান (২৩) মহেশপুর গ্রামের জাকির হোসেনের পুত্র। ঘাতক খাইরুল আমিন (৩৬) একই গ্রামের বাসিন্দা। তাদের সম্পর্ক একসময় ছিল 'শিক্ষক-শিষ্য', কিন্তু তা পরিণত হয়েছিল এক ভয়ংকর শারীরিক আসক্তিতে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় দশ বছর আগে উমরকে ইলেকট্রনিকস কাজ শেখার জন্য খাইরুলের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তখন থেকেই তাদের মধ্যে এক অস্বাভাবিক সম্পর্কের সূচনা হয়। বয়সে বড় খাইরুল উমরকে নিজের বিকৃত যৌন আকাঙ্ক্ষার ফাঁদে ফেলে মানসিকভাবে বন্দি করে রাখে। দশ বছর ধরে চলতে থাকে এই অমানবিক নির্যাতন। এক পর্যায়ে উমর সব সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রস্তুতি নিতে থাকলে খাইরুলের মনে জমে ওঠে প্রতিশোধের আগুন। হত্যার আগের দিনই তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। উমরের এই বিদ্রোহ খাইরুল সহ্য করতে পারেনি।
সেই ক্ষোভই ছিল এই হত্যার মূল প্রেরণা। গত শক্রবার গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে যায়, তখন খাইরুল সিঁধ কেটে প্রবেশ করে উমরের ঘরে। হাতে ধারালো ছুরি। প্রথম কোপেই কাঁধ আর ঘাড় বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম। এরপর বারবার আঘাত করে রক্তে ভাসিয়ে দেয় ঘর। শেষ আঘাতটি ছিল গলায়—জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করে তবেই থামে ঘাতক। চিৎকার শুনে উমরের মা রাহেলা বেগম ছুটে আসেন কিন্তু খাইরুল তাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরা এসে পুলিশকে খবর দেয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, খাইরুলের মধ্যে বিকৃত যৌন আসক্তি ছিল প্রবল। সে বিয়েও করেছিল একসময়, কিন্তু বিকৃত চাহিদা মেটাতে না পারায় স্ত্রীকে তালাক দেয়। এরপর নিজের শিষ্য উমরকেই বানায় লালসার শিকার। যখন উমর তার হাত থেকে মুক্তি চাইলো, তখনই জন্ম নেয় ঘৃণা, হিংসা আর প্রতিশোধ।
স্থানীয়দের ভাষায়, এমন ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড এর আগে এখানে কেউ দেখেনি। তারা বলেন, বিকৃত সম্পর্কের মতো জঘন্য বিষয়কে সমাজে স্থান দেওয়া উচিত নয়, কারণ এর পরিণতি হয় এমনই রক্তাক্ত।
এদিকে নবীনগর থানার ওসি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে রাতেই অভিযান চালিয়ে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে ঘাতককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মহেশপুর বিল থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি। ওসি বলেন, ঘাতক পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
মন্তব্য করুন: