বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে জুলাই ২০২৬, ৮ই শ্রাবণ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
  • গুম-খুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে করা হবে : র‍্যাব ডিজি
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি এখনো
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া : বিএনপি
  • ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় চমক’ আছে, সতর্কতা ইরানের
  • কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • আমেরিকা-চীন-রাশিয়া: পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

সোনাইমুড়ীতে মাটি ব্যবসায়ীকে ইট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩ জন

মোহাম্মদ হানিফ, নোয়াখালী

প্রকাশিত:
২৫ অক্টোবর ২০২৫, ১৫:৪৭

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবুল কাশেম (৫০) নামে এক মাটি ব্যবসায়ীকে ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করেছে। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাইমুড়ী গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত আবুল কাশেম ওই এলাকার আবেদ ভূঁইয়া বাড়ির মৃত দুধ মিয়ার ছেলে।স্থানীয় ও নিহতের স্বজনদের বরাতে জানা যায়, কয়েক দিন আগে একই এলাকার যুবকদের মধ্যে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে শুক্রবার জুমার নামাজের পর সালিশ বৈঠকের কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিকেলে একই মাঠে পুনরায় খেলাধুলা চলাকালে পূর্বের বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও তর্কবিতর্ক শুরু হয়।

একপর্যায়ে জমিদার বাড়ির আবুল খায়ের মাস্টার, তার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও ওমর ফারুকসহ কয়েকজন; অন্যদিকে হাবিব উল্যা পশু ডাক্তার বাড়ির মাইন উদ্দিন ও তার ছেলে রাকিব সংঘবদ্ধভাবে আবুল কাশেম ও তার ছেলে সোহাগের ওপর চড়াও হয়। তারা সোহাগকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে এবং আবুল কাশেমকে ইট দিয়ে বুকে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহত কাশেমকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহতের ছেলে সোহাগ বলেন, বাবা মানুষকে শান্ত করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তারা উল্টো বাবাকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারে। ইট বুকে লাগার পর তিনি পড়ে যান, তারপরও তারা নির্মমভাবে মারতে থাকে।

এদিকে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ছোটখাটো বিষয়ে বিরোধ লেগে আছে। সামান্য বিষয় নিয়ে প্রাণহানি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বের বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর