প্রকাশিত:
২৯ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৩৮
মানবিকতার প্রতীক রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মেহেদী হাসান যশোরের মনিরামপুরে গড়ে তুলেছেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত "আমাদের অ্যাম্বুলেন্স"। মনিরামপুরবাসীর সেবায় নিয়োজিত এই বিনামূল্য সেবা কার্যক্রম আজ হয়ে উঠেছে মানুষের ভরসার নাম। গত বছরের জুন মাসে নিবন্ধিত আমাদের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস টি দ্বৈত এসি সুবিধা সহ চালু করেন মনিরামপুরের মানবতার ডাক্তার খ্যাত ডাঃ মেহেদী হাসান। সেই মাসেই ১০৭ জন রোগীকে অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিয়ে স্থানীয়ভাবে বিশাল মানবিক আলোড়ন সৃষ্টি করেন আমাদের অ্যাম্বুলেন্স। এই সেবার প্রথম কার্যক্রমেই মানবতার নিদর্শন রচিত হয়। উল্লেখ্য গত বছরের ১লা জুন আমাদের অ্যাম্বুলেন্সের প্রথম ফ্রী সেবা দেওয়া হয় প্রবাসী আব্দুল খালেকের লাশ বহনের মধ্যে দিয়ে।
তিনি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে মস্তিষ্কে রক্তকরণে মারা যান এবং লাশটি ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মনিরামপুর এর হরিহরনগর ইউনিয়নের মুক্তারপুর গ্রামে বিনামূল্যে পৌঁছে দেয়া হয়, এতে শোকাহত পরিবার ও এলাকাবাসী গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ডাক্তার মেহেদী হাসানের প্রতি। এরপর ধারাবাহিকভাবে একই মাসে আরো চারজনের মৃতদেহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বহন করেন অ্যাম্বুলেন্স সেবাটি। যেখানে পরিবারগুলোকে একটি টাকাও ব্যয় করতে হয়নি। মানবতার পথে অ্যাম্বুলেন্সটির যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে এই সেবার ধারাবাহিকতা চলমান। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে চারজনের মৃতদেহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বহন করে আমাদের অ্যাম্বুলেন্স এবং নামমাত্র সামান্য জ্বালানি খরচে আরো ৭৬ জন রোগী এই সেবা নেন। চলতি অক্টোবর মাসেও ঢাকা থেকে দুইজন প্রবাসীর মরদেহসহ মোট ১০ জনের মৃতদেহ বিনামূল্যে বহন করেছে আমাদের অ্যাম্বুলেন্স।
এছাড়াও শুধুমাত্র সামান্য তেল খরচের বিনিময়ে শতাধিক সাধারণ মানুষ পেয়েছেন দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা। মনিরামপুরের পাচাকড়ির উজ্জ্বল মোল্যা, গোপালপুরের তারিকুল ইসলাম, কুয়াদার আসাদুল, নেহালপুরের মরিয়ামসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষ আমাদের অ্যাম্বুলেন্স এর সেবা গ্রহণ করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। অল্প খরচে এমন সেবা আমাদের এলাকায় পাওয়া যায়, এটা কল্পনাও করিনি - বলেন মনিরামপুরের ফজলু হোসেন, যিনি গত জুলাইয়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ডাক্তার মেহেদী হাসান এক অনুপ্রেরণার নাম। রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক প্রাপ্ত এই আলোচিত চিকিৎসক আমাদের অ্যাম্বুলেন্স প্রকল্প সম্পর্কে বলেন, অ্যাম্বুলেন্স মানে শুধু রোগী বহন নয়, এটি মানবিক দায়িত্ব। অনেক সময় মৃতদেহ পরিবহনে পরিবারগুলো পড়ে চরম বিপাকে, তাই এই উদ্যোগ। শুধু সেবা নয়, এটি মণিরামপুরবাসীর পাশে দাঁড়ানোর এক প্রতিশ্রুতি।
বর্তমানে “আমাদের অ্যাম্বুলেন্স” শুধু একটি পরিবহন নয়, এটি হয়ে উঠেছে এক মানবতার প্রতীক, যেখানে প্রতিটি যাত্রা মানে একটি কৃতজ্ঞ পরিবার, একটি আশার গল্প। স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণও ডা. মেহেদী হাসানের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, এমন উদ্যোগ মনিরামপুরের সমাজ ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে মানবিকতায় ভরিয়ে তুলছে। মনিরামপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে প্রবাসীর ঘরে, যেখানেই থাকুন না কেন, আমাদের অ্যাম্বুলেন্স এখন সবার জন্য এক পরিচিত নাম। ইতিমধ্যে আমাদের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসটি ১৭০০ এর অধিক মানুষকে শুধুমাত্র তেল খরচের বিনিময়ে সেবা দিয়েছে যার মধ্যে ১০০ এর অধিক মৃতদেহ বিনামূল্যে বহন করে মানুষের প্রশংসায় ভাসছে।
মন্তব্য করুন: