প্রকাশিত:
৩ নভেম্বর ২০২৫, ১৪:১০
"অগ্রাহায়ণ মাসে আইসেন ভাইজান, ক্ষেতে লাগাইছি কালিজিরি ধান। এই চাইলে পোলাও হয় সুঘ্রাণ, সাথে খাইবেন দেশী মোরগের রান।" গ্রামীণ কথায় উঠে আসা ধানের নাম কালিজিরি। অতান্ত উচুমানের সুগন্ধির জাতের এই ধান দেশে আজ বিলুপ্তির পথে। এই ধান সুস্বাদু পোলাও রান্নায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে। পাকশিদের কাছে পোলাও ছাড়াও পিঠা ও পায়েস রান্নায় এর জুড়ি মেলা ভার।
কালিজিরা ধান বর্তমানে প্রকৃতির বিবর্তন কারন এবং জৈব সার মাটিতে কমে যাবার ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে উৎপাদন কমে গেছে। তাছাড়া অধিক উৎপাদনশীল হাইব্রিড ধান চাষে কৃষকরা এখন ঝুঁকেছে। দেশে অনেক রকম সুগন্ধি চাল থাকলেও অতি সুগন্ধযুক্ত কালিজিরি ধানের তুলনা নাই। কালিজিরা ধানের আবাদ কমলেও পোলাওয়ের স্বাদে বাংলার প্রতিটি মানুষের কাছে শীর্ষে।
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার পাইকসা গ্রামের কৃষক তোরাব আলি একটি বর্গা ১৫ শতাংশ ক্ষেতে এই সুগন্ধি ধানের চাষ করেছেন। ক্ষেতের আশপাশ দিয়ে যাবার সময় ধান গাছ থেকে কালিজিরি ধানের সুগন্ধি পাওয়া যায়। দারুন এক আমোদি ঘ্রাণ।
তার সাথে কথা হলে জানান, এই ধানের ফলন অনেক কম। কষ্ট করে কালিজিরি বুনেছি নিজেদের ঈদ উৎসবে পরিবারের পোলাও খাবার জন্য। ১০ শতাংশে ১ মন ধান হবে। খরচ হিসেব করলে লোকসান। বাজারে কেজি দর পাওয়া যায় ১২০ টাকা। তাতেও পোষায় না।
সুগন্ধি চালের জাতের মধ্যে কালিজিরা ধান স্বাদে ও গন্ধে ভরপুর। এদেশে এলাকা ভিত্তিক এই ধান আবাদের কম বেশি প্রচলন আছে। দেশি জাতগুলোর চাল আকারে ছোট ও অনেকটা গোলাকার হয়। সুগন্ধি ধানের জাতগুলোর বেশির আলোক সংবেদনশীল, দিনের দৈর্ঘ্য কমে গেলে হেমন্তকালে ফুল ও দানা গঠন হয়। এই সুগন্ধী কালিজিরা ধান হয় চিকন লম্বাটে। এ মৌসুমে প্রায় ১০% জমিতে সুগন্ধি ধানের আবাদ করা হয়। কৃষকরা এই জাতের ধান কাটেন কার্তিক মাসের শেষে।
তবে বাংলাদেশের আবহাওয়া ও পরিবেশে আমন ও বোরো দুই মৌসুমে এ সুগন্ধি ধান চাষ করা সম্ভব। বাংলাদেশের মধ্যে উত্তরাঞ্চলে সুগন্ধি ধানের চাষ সবচেয়ে বেশি হয়। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে দিনাজপুর জেলা। এছাড়া ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, রংপুর, নওগাঁ এবং রাজশাহী জেলায় সুগন্ধি ধান চাষ হয়। উল্লেখ্য এ চাল বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
কালিজিরা ধান বর্তমানে প্রাকৃতির বিবর্তনের কারন এবং জৈব সার মাটিতে কমে যাবার ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে উৎপাদন কমে গেছে। অধিক উৎপাদনশীল হাইব্রিড ধান চাষে কৃষকরা এখন ঝুঁকেছে। দেশে অনেক রকম সুগন্ধি চাল থাকলেও অতি সুগন্ধযুক্ত কালিজিরি ধানের তুলনা হয়না।
পলাশ উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাধন চন্দ্র জানান, উপজেলা ৪ টি ইউনিয়ান ও ১ টি পৌরসভা মোট ৫টি কৃষি এলেকায় এবার কালিজিরা ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জণ হয়েছে ১৪০ হেক্টর জমি। তিনি আরো বলেন আগামীতে উৎপাদন আরো বেশী অর্জণের জন্য আমাদের নিতিনির্ধারন তৈরী করা হবে। যাতে বিলুপ্ত প্রায় এই সুগন্ধি কালিজিরা ধান আবার আমাদের মাঝে মুখ রোচক হয়ে ফিরে আসে।
মন্তব্য করুন: