প্রকাশিত:
৪ নভেম্বর ২০২৫, ১৫:৪৬
নরসিংদীর জেলার মনোহরদী পৌরসভার মনোহরদী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্নে ৫ নং ওয়ার্ডের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঢাকা-কিশোরগঞ্জ হাইওয়ে রোডের উপর গড়ে উঠেছে পাহাড় সমান বিশাল ময়লার ভাগাড়। মনোহরদীর এ পৌরসভাটি ২০০২ সালে প্রতিষ্টিত হয়। এই পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় ২১০০০ হাজার। দেখা যাচ্ছে এ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রচুর পরিমাণ বর্জ্য আবর্জনা হয়। শুধু পৌরসভার আবর্জনাই নয় উপজেলার অন্যান্য পাশ্ববর্তী এলাকা থেকেও প্রতিদিন ময়লা আবর্জনা গুলো ট্রাকে, ভ্যানে করে এনে এখানেই বর্জ্য, আর্বজনা ফেলা হচ্ছে। ফলে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র দূর্গন্ধ, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে জনস্বাস্থ্য।
স্থানীয়রা বলছে মহাসড়কের উপর এমন একটি বর্জ্য ভাগাড় থাকা শুধু অস্বাস্থ্যকরই নয় বরং এটি পুরো পৌরসভার সৌন্দর্য ও ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে এ বর্জ্য অপসারণ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছে পৌরবাসী ও নিত্যদিনে চলাফেরা করা জনসাধারণ। সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া মহাসড়কে জমে আছে নানান ধরনের বর্জ্য পঁচা -সবজি, পলিথিন, নোংরা কাপড়, মৃত গরু- ছাগল এবং হাসপাতালের বর্জ্যও। এসব আর্বজনা এবং মৃত পশুর থেকে নির্গত দূর্গন্ধে জনসাধারণের হাঁটাচলা করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সকাল-বিকাল স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসারগামী ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষক ও অফিসগামী মানুষের চলাচল বেড়ে যায় তখনকার সময়ই দূর্গন্ধের পরিস্থিতি আরোও ভয়াবহ হয়ে উঠে।
পথচারী রোমান মিয়া বলেন, এই মহাসড়ক দিয়ে আসা যাওয়া এখন বিপদজনক। শিয়াল-কুকুর ও কাক-পক্ষির উৎপাতে গাড়ী চালানো বিপদের সম্মুখীন হতে হয়, আবার প্রচন্ড গন্ধে নাক মুখ চেপে ধরে চলাচল করতে হয়, অনেক সময় দূর্গন্ধে বমিও চলে আসে। এলোমেলো বাতাসে দূর্গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। অটোরিকশা চালক নুর মোহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, এই ময়লার ভাগাড়ে দিনরাত কুকুর, শিয়াল ও কাক পক্ষির ভিড় লেগেই থাকে, ময়লা ছড়িয়ে দেয় সারা রাস্তায়। রাতের অন্ধকারে এসবের কারণে বিভিন্ন ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে। ঝড়বৃষ্টির সময় এ রাস্তাটি খুবই বিপদজনক রুপ নেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষেরা জানিয়েছেন যে, পৌরসভার কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে এখানেই ময়লা আর্বজনা গুলো ফেলে আসছে। পৌরসভার পশ্চিম দিকে ব্রহ্মপুত্র নদী বহমান রয়েছে সেখানে ফাকা জায়গা বিদ্যমান রয়েছে। নদীর ধারে এ বর্জ্য আর্বজনার ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করলে এই দূর্গন্ধ থেকে আমরা পরিত্রান পেতাম। পৌরসভার প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আমাদের অনুরোধ এবং দৃষ্টি আকর্ষণ করছি দ্রততার সহিত এই ময়লার ভাগাড়টি এখান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য। ময়লার ভাগাড়ের পঁচা বর্জ্যের রস ও সেঁতসেঁতে পানির কারণে পাশের ফসলেরও ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় কলেজ ছাত্রী সানিয়া বলেন, প্রতিদিনই এ রাস্তা দিয়ে কলেজে আসা যাওয়া করতে হয় প্রতিদিনই নাক মুখ চেপে ধরে দ্রুত পার হতে হয়। ঝড়-বৃষ্টির সময় তার গন্ধ প্রকট আকার ধারণ করে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনবসতির এত কাছাকাছি বর্জ্য ফেলা পরিবেশের জন্য গুরুতর হুমকি ও ঝুঁকি তৈরি করে। এতে শুধু দূর্গন্ধই নয় নানা ধরনের রোগ জীবানু ছড়াবোর আশংকাও থাকে। এটি স্থানীয় জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হতে পারে। পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জনাব জাকির হোসেন আকন্দ বাবুল বলেন, আসলেই এ ময়লার ভাগাড়ের জন্য আমাদের এবং পথচারীদের খুবই সমস্যা হচ্ছে যার ফলে এখানে প্রায়ই দূর্ঘটনা ঘটছে। এই ময়লার ভাগাড় টি এখান থেকে সরানোর জন্য পরিকল্পনা চলছে। মনোহরদী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব এম এ মুহাইমিন আল জিহান বলেন, আমাদের পৌর এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নিদিষ্ট কোন স্থান নেই। এ কারণে আপাদত এ স্থানেই বর্জ্য গুলো রাখা হচ্ছে। অতি দ্রুত একটা জায়গা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছ। খুব শীঘ্রই এর বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে এ সমস্যার সমাধান করা হবে।
মন্তব্য করুন: