শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

নাসিরনগরের হাওরে খালে পানি নেই, ১৯ হাজার বিঘা জমি আবাদ অনিশ্চিত

সুজন সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত:
১০ নভেম্বর ২০২৫, ১৩:৩৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়ন হাওরবেষ্টিত এলাকা। মেঘনার পূর্ব পাড়ে এর অবস্থান। ওপারে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের বাঙালপাড়া ইউনিয়ন। মাঝখানে মেঘনার শাখা চিকনদিয়া ও কাইঞ্চার খাল। বছরের অর্ধেক সময় এখানকার মানুষ নৌকায় চলাচল করে; বাড়ির পাশের খালেই থাকে পানি। একসময় এই দুটি খালের পানিতেই সেচ দিত ওই এলাকার প্রায় ১৯ হাজার বিঘা জমি।

কিন্তু এখন খালের বুক পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি সেচের অভাবে হাজারো কৃষক পরিবার বোরো মৌসুমে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কাইঞ্চার খালের পানিতে গোয়ালনগর, নোয়াগাঁও, মাছমা, আশানগর, দক্ষিণদিয়া ও রামপুর—এই ছয়টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার বিঘা জমিতে চাষ হয়। অন্যদিকে চিকনদিয়া খালের পানিতে সোনাতলা, ঝামারবালি, কদমতলী ও মাইজখলা গ্রামের প্রায় চার হাজার বিঘা জমি আবাদ হয়। চলতি মৌসুমে খাল দুটিতে পানি না থাকলে এসব জমি অনাবাদি থেকে যাবে।

নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন বলেন, ‘গোয়ালনগর ইউনিয়নে এ বছর ১৬ হাজার বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু খাল দুটির নাব্যতা না ফিরলে অন্তত ১০ থেকে ১৪ হাজার বিঘা জমি অনাবাদি থাকবে। এতে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার মণ ধানের উৎপাদন কমে যাবে।’

স্থানীয়দের ভাষায়, ‘মেঘনা নিজের পথ হারাইছে।’ গত এক দশকে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম এলাকায় নির্বিচারে বালু তোলায় নদীর প্রবাহ সরে গেছে। ফলে চিকনদিয়া আর কাইঞ্চার খালের মুখে পলি জমে ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেছে পানির প্রবাহ।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, নভেম্বরের মধ্যে খাল দুটো খনন না করা হলে এক ফসলি হিসেবে পরিচিত গোটা হাওর অঞ্চলে ধান আবাদ সম্ভব হবে না।

গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজহারুল হক বলেন, কৃষকদের পক্ষ থেকে কয়েক বছর ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএডিসি) লিখিত আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো কেউ সাড়া দেননি, মাঠে আসেননি। ‘আমি নিজেও বছরের পর বছর পাউবো ও বিএডিসির অফিসে ঘুরেছি। কর্মকর্তাদের বারবার জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। গত বছর অর্ধেক জমি অনাবাদি ছিল, এ বছর সবই বন্ধ হয়ে যাবে,’ বলেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৫–১৬ অর্থবছরে চার কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৩০ ফুট প্রস্থের চিকনদিয়া খাল খননের জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে আট লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বরাদ্দের বিপরীতে কোনো কাজ হয়নি; বরং বরাদ্দের টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়ে গেছে।

গোয়ালনগর থেকে আশানগর পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে কাইঞ্চার খাল পলিতে ভরাট হয়ে আছে। কোথাও কোথাও চরও উঠেছে। একইভাবে সোনাতলা থেকে ঝামারবালি পর্যন্ত চার কিলোমিটার চিকনদিয়া খালও প্রায় শুকিয়ে গেছে। পানির প্রবাহ নেই বললেই চলে। এখন মাঠে চাষিরা চারা রোপণ বা পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকার কথা, কিন্তু মাঠজুড়ে নীরবতা—কোথাও চাষাবাদের কোনো চিহ্ন নেই।

নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক সঞ্জিব দাস বলেন, ‘কাইঞ্চার খালই আমাদের জীবিকার ভরসা। পানি না থাকলে ধান চাষ হয় না, মাছও পাওয়া যায় না।’ গোয়ালনগর গ্রামের ফাইজুল ইসলাম জানান, ‘এ বছর অন্তত ১৪ হাজার বিঘা জমিতে চাষ করা সম্ভব হবে না। ১০ থেকে ১২ হাজার কৃষক পরিবার এই ফসলের ওপর নির্ভরশীল।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরিন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিএডিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। ‘শিগগিরই এর সমাধান হবে বলে আশা করছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আকাশ দত্ত বলেন, ‘বরাদ্দ পাওয়া গেলে খনন কাজ শুরু করা হবে।’




মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর