প্রকাশিত:
১৩ নভেম্বর ২০২৫, ১৮:১৫
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দিন-রাত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ১০ চাকার ডাম্প ট্রাক। উপজেলার অর্ধশতাধিক ইটভাটায় মাটি, কয়লা ও বালু পরিবহনে এসব ভারী ট্রাক ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে আঞ্চলিক মহাসড়কসহ গ্রামীণ সড়কগুলোর মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
বুধবার (১২ নভেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং বাস্তা-মানিকনগরসহ বিভিন্ন সড়কে অবাধে চলাচল করছে এসব ট্রাক। ফলে সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে গর্তের , ভেঙে পড়ছে পিচঢালা অংশ। ধুলাবালিতে নাজেহাল এলাকাবাসীর।বৃষ্টি হলে তৈরি হচ্ছে কাদা, আর বেড়ে যাচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাতভর ডাম্প ট্রাক চলে অবাধে। এতে সরকারের কোটি টাকায় নির্মিত রাস্তাগুলো এখন ভাঙনের মুখে।”
জামির্তা ইউনিয়নের হাতনি এলাকার একটি ইটভাটায় প্রতিদিন রাতভর ডাম্প ট্রাকে মাটি আনা-নেওয়া হয় বলে জানান তারা।
কহিলাতলী এলাকার বাসিন্দা ইউনুস মিয়া বলেন, “ওভারলোড করে মাটি পরিবহন করায় রাস্তার ওপর কাদা পড়ে, ঘরে ঢুকে পড়ে ধুলা। বৃষ্টি হলে দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
ট্রাকচালক মোঃ নান্নু বলেন, “আমিনবাজার থেকে মাটি ভরে হাতনি এলাকায় ভাটায় যাচ্ছি। নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানতাম না। মালিক যেখানে যেতে বলেন, আমরা সেখানেই যাই।”
জামির্তা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্বাস উদ্দিন বলেন, “যদি এভাবে ডাম্প ট্রাকগুলো নিয়মিত ওভারলোড নিয়ে চলে, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
‘টিএসবি' ভাটার মালিক মিঠু মিয়া বলেন, “মাটি পরিবহন করছেন ইয়াসিন। যদি নিষেধ থাকে, তাহলে ছোট গাড়িতে মাটি বহনের ব্যবস্থা করতে বলবো।”
এ বিষয়ে ব্যবসায়ী ইয়াসিন মিয়া বলেন, “আমি নিজে মাটি নিচ্ছি না, শুধু গাড়ি দিয়েছি। মাটি নিচ্ছেন মিঠু সাহেব। সাত বছর ধরে এই রাস্তায় ডাম্প ট্রাক চলছে। শুধু শুনি ডাম্প ট্রাক নিষিদ্ধ এ নিয়ে ইউএনও স্যার ও এসিল্যান্ড স্যারের সাথেও কথা বলেছি। তাঁরা কখনো কোথাও দেখাতে পারিনি যে এই গাড়িগুলো চলাচল অবৈধ। পরে প্রশাসন থেকে বলা হয়েছিল, ধুলাবালির কারণে দিনে যেন ট্রাক না চলে—রাতে চালাতে নিয়ম মেনে চালাতে পারবেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা শুধু রাতে গাড়ি চালাই।”
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জে.ও.এম. তৌফিক আজম বলেন, “আঞ্চলিক সড়কে ডাম্প ট্রাক চলাচলের বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্ত কেন্দ্রকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিচ্ছি।”
শান্তিপুর (বাঘুলী) তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. আতিকুর রহমান বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান সোহাগ বলেন, “ডাম্প ট্রাক চলাচলের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ধল্লা পুলিশ ক্যাম্পে বলে দিচ্ছি নজরদারিতে রাখার জন্য। আমাদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও বিষয়টি নজরদারিতে রাখবেন, এবং অবৈধভাবে চলাচল করলে অভিযান চালানো হবে।”
মন্তব্য করুন: