শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

চার বছর ধরে চলাচলের ঝুঁকি, মনিরামপুর টু নওয়াপাড়া সড়ক এখন আতঙ্কের নাম

মুহাইমিনুল হক মীম, মনিরামপুর (যশোর)

প্রকাশিত:
১৮ নভেম্বর ২০২৫, ১৫:৪৩

যশোরের মনিরামপুরের ব্যস্ততম সড়কগুলোর অন্যতম মনিরামপুর টু নওয়াপাড়া সড়ক দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে শিল্পনগরী নওয়াপাড়ার সঙ্গে দ্রুত পণ্য পরিবহনের অন্যতম সংক্ষিপ্ত পথ হওয়ায় এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন নানা শ্রেণির মানুষের যাতায়াত ছিল। কিন্তু চার বছর ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। হোগলাডাঙ্গা থেকে হাজিরহাট ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তার অন্তত ৯টি স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা গেছে।

বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কয়েক ফুট দেবে গিয়ে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় চার চাকার যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে বাধ্য হয়ে সাইকেল, মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও চারচাকার যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, হোগলাডাঙ্গা ঋষিপাড়া থেকে হাজিরহাট ব্রিজের আগের অংশ পর্যন্ত পুরো রাস্তাজুড়ে ৯ টির বেশি ভাঙন দেখা যায়। শুধু মনিরামপুর নয়, অভয়নগর উপজেলার অংশেও একই চিত্র। স্থানীয়দের অভিযোগ ভাঙা সড়কে গাড়ি উঠলে মনে হয় যেকোনো মুহূর্তে উল্টে যেতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে প্রতিনিয়ত পণ্যবোঝাই ছোট বড় ট্রাকের শব্দ শোনা যেত। এখন সেই ব্যস্ততার জায়গায় নেমে এসেছে নীরবতা। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহন ব্যয় ও সময় উভয়ই বেড়ে গেছে। ২০২১ সালের শেষের দিকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে হোগলাডাঙ্গা থেকে হাজিরহাট পর্যন্ত ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করেন যশোরের ঠিকাদার শাহারুল ইসলাম। স্থানীয়দের অভিযোগ, সে সময় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সংস্কারকাজ করা হলেও ঠিকাদারের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ অভিযোগ জানাতে সাহস করেননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সড়কের দুই পাশে থাকা জলাশয়ের জায়গায় প্যালাসাইডিং না করে জলাশয় খুঁড়ে পাড় বাঁধার চেষ্টা করা হয়েছিল। এতে রাস্তা চালুর কয়েক দিনের মাথায় কার্পেটিং ফেটে গিয়ে ভেঙে পড়ে। কিছুদিন পর পুরো কার্পেটিংসহ রাস্তা নিচে দেবে গিয়ে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। পরে প্রকৌশল দপ্তর ভাঙা স্থানে ইটের সলিং বসালেও তা টিকেনি; বরং সময়ের সঙ্গে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। পথচারী হাসিবুর রহমান বলেন, মোটরসাইকেলে গেলে তুলনামূলক কম সমস্যা হয়। কিন্তু ইজিবাইক বা টেকারে উঠলে ভাঙা অংশে পার হওয়ার সময় মনে হয় গাড়ি উল্টে পড়বে। তখন ভয় লেগে থাকে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে গেছে এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। মনিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, মনিরামপুর নওয়াপাড়া সড়কের হোগলাডাঙ্গা থেকে হাজিরহাট ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সবকিছু চূড়ান্ত হলে আগামী ডিসেম্বরেই সংস্কারকাজ শুরু হবে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এই সড়কটি দ্রুত ঠিক হলে বেনাপোল স্থলবন্দর, নওয়াপাড়া শিল্প অঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের পণ্য পরিবহন আবার দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে চলবে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর