প্রকাশিত:
১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৮:১৫
যশোর সদর উপজেলার ভগবতিতলা এলাকায় নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর ভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। বহু প্রত্যাশার এই সেতুটি এলাকার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী ও রোগী পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও কাজ বন্ধ হয়ে থাকায় সকল স্তরের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে সেতুটির পাইলিংসহ কিছু কাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়। দ্রুতই অগ্রগতি হবে—এমন আশা থাকলেও কয়েক মাসের মধ্যেই কাজ থেমে যায়। এরপর আর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সেতুটি এখন অর্ধনির্মিত অবস্থায় পড়ে আছে।
সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় ভগবতিতলা সহ কয়েকটি এলাকার যাতায়াতব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। নদী–খাল পার হতে এখনো স্থানীয়দের নানা ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ বাসের তৈরি অস্থায়ী এক সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকো দিয়ে চলাচল বিপজ্জনক হয়ে পড়ে এবং বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হয় মানুষ। এতে সময় ও খরচ বাড়ছে দ্বিগুণ।
স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। অনেকে সকালবেলায় ঘর থেকে বের হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রায় দ্বিগুণ সময় ব্যয় করছে। রোগী পরিবহনে বিলম্ব হওয়ায় চিকিৎসাসেবায়ও বিঘ্ন ঘটছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্য আনা–নেওয়ায় যানবাহনের খরচ বেড়ে গেছে, যা স্থানীয় বাজারমূল্যেও প্রভাব ফেলছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুর কাজ কেন বন্ধ—এ বিষয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। কেউই কাজ শুরুর নতুন তারিখ জানাতে পারে না, যা হতাশাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, প্রশাসনিক ও প্রকল্পসংক্রান্ত কিছু জটিলতা রয়েছে। এসব বিষয় সমাধান হলে সেতুর কাজ পুনরায় শুরু করা হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে, কবে শেষ হবে ভগবতিতলা সেতুর নির্মাণ—তা অনিশ্চিত। দীর্ঘদিনব্যাপী স্থবির প্রকল্পে যশোর সদর উপজেলার হাজারো মানুষের জনজীবনে নেমে এসেছে গভীর দুর্ভোগ ও হতাশা।
মন্তব্য করুন: