প্রকাশিত:
২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫:০২
জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল সময়টুকুতেই থমকে গেছে সুজনের জীবন। ব্রেইন টিউমারের মতো মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে টানা ১০ বছর ধরে শয্যাশায়ী মনপুরার এক তরুণ সুজন। চিকিৎসার অভাবে, অর্থসংকটে আর অবহেলায় আজ তার জীবন কেবল নিঃশব্দ আর্তনাদ।
দ্বীপ জেলা ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা। এই মনপুরা উপজেলার ২ নং হাজীরহাট ইউনিয়ন এর সোনার চর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা আজাহার মিয়ার ৩ নাম্বার ছেলে সুজন (২৪)। সুজনের বয়স যখন ১৫ তখন হটাৎ করে ধরা পরে ব্রেইন টিউমারে। সুজনের পরিবার এই ব্রেইন টিউমার ভালো করার জন্য প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ব্যায় করেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারেনি সুজনের স্বাভাবিক জীবন। সুজনের পরিবার তাদের সর্বশ হাড়িয়ে এখন সুজনের পরিবারের চোখে মুখে শুধুই হতাশা। এখন ডক্টর বলছে ৩-৪ লক্ষ টাকা হলে সুজনের অপারেশন করে সুস্থ করে আনা হয়তো সম্ভব হবে। ২৪ বছরের টগবগে যুবকের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে টাকার সন্ধানে দিক বেদিক ছুটে চলছেন সুজনের বাবা মা।
সুজনের বয়স ১৫ তখন মাত্র তরুণ। ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিল হাজারো স্বপ্ন কাজ করবে, পরিবারকে সুখে রাখবে, সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। কিন্তু হঠাৎ করেই শুরু হয় তীব্র মাথাব্যথা, বমি আর খিঁচুনি। পরে ঢাকায় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে ধরা পড়ে ভয়াবহ সত্য ব্রেইন টিউমার।
এরপর থেকেই শুরু হয় দীর্ঘ সংগ্রাম। প্রথম দিকে আত্মীয়স্বজন ও ধারদেনা করে একটি অপারেশন এবং কিছু চিকিৎসা চললেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব শেষ হয়ে যায়। প্রথম ১৭ সালে অস্ত্রোপচার হলেও ঘুরে দাঁড়ায়নি স্বাভাবিক জীবন। এর পর অন্য আরেক টি হাসপাতালে নিলেও প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার ও নিয়মিত চিকিৎসা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে সুজন হয়ে পড়েন সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী।
বর্তমানে সুজন কথা বলতে পারেন না, নিজে খেতে পারেন না, নড়াচড়াও করতে পারেন না। বিছানাই তার পৃথিবী। দিনের পর দিন একই অবস্থায় পড়ে থাকা এই তরুণের চোখে মুখে শুধুই অসহায়ত্ব।
সুজনের পরিবারও চরম দুর্ভোগে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আজ নিজেই অসহায়। চিকিৎসা তো দূরের কথা, নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারটিকে। মা–বাবা কিংবা স্বজনরা চোখের পানি লুকিয়ে শুধু তাকিয়ে থাকেন প্রিয় সন্তানের দিকে কিছুই করার নেই।
পরিবারের সদস্যরা বলেন , বারবার স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরে সাহায্যের আবেদন জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সহায়তা মেলেনি। সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা পেলে অন্তত চিকিৎসার আশাটা আবার জাগতে পারে।
মনপুরার প্রত্যন্ত এলাকায় পড়ে থাকা সুজনের এই জীবনযুদ্ধ যেন আমাদের সমাজের একটি নির্মম বাস্তবচিত্র। চিকিৎসার অভাবে, দারিদ্র্যের চাপে প্রতিদিন নীরবে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে একটি তরুণ প্রাণ।
আজ সুজনের গল্প শুধু একটি পরিবারের নয় এটি মানবতার গল্প, অবহেলার গল্প। প্রশ্ন থেকেই যায়, আর কত সুজন এভাবে নিঃশব্দে হারিয়ে যাবে?
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মো: আবু মুসা নাগরিক সংবাদকে বলেন, ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হওয়া সুজনের পরিবারের পক্ষ থেকে আমার কাছে আবেদন করা হলে আমি তাদেরকে সরকারিভাবে সহযোগিতা করব।
মনপুরার প্রত্যন্ত এলাকায় পড়ে থাকা সুজনের এই জীবনযুদ্ধ যেন আমাদের সমাজের একটি নির্মম বাস্তবচিত্র। চিকিৎসার অভাবে, দারিদ্র্যের চাপে প্রতিদিন নীরবে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে একটি তরুণ প্রাণ।
আজ সুজনের গল্প শুধু একটি পরিবারের নয় এটি মানবতার গল্প, অবহেলার গল্প। প্রশ্ন থেকেই যায়, আর কত সুজন এভাবে নিঃশব্দে হারিয়ে যাবে?
মন্তব্য করুন: