প্রকাশিত:
১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮:৪৫
দেশের রেস্তোরাঁ খাত ক্রমেই গভীর সংকটে পড়ছে। এলপি গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতি, ট্রেড ইউনিয়নের নামে হয়রানি, খাদ্যপণ্যের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ওয়ান স্টপ সার্ভিসের অভাব এবং অনিয়ন্ত্রিত স্ট্রিট ফুড ব্যবসার বিস্তারে এই খাত কার্যত চাপে রয়েছে বলে দাবি করেছেন রেস্তোরাঁ মালিকেরা।
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর সমাধান না এলে সারাদেশে রেস্তোরাঁ বন্ধের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ খাতের নেতারা এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পূর্ববর্তী সময়ে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে রেস্তোরাঁ খাতে প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ করা হয় এবং আমদানি করা এলপিজির বাজার একটি বেসরকারি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বর্তমানে সেই সিন্ডিকেট বাজার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে। পাশাপাশি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রিতেও গড়ে উঠেছে আলাদা সিন্ডিকেট, যারা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছে।
অতিরিক্ত দামে এলপি গ্যাস কিনে রান্না করতে গিয়ে রেস্তোরাঁগুলোর পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে খাবারের দাম বাড়ানোর চাপ তৈরি হলেও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় দাম বাড়াতে পারছেন না মালিকেরা। ফলে অনেক রেস্তোরাঁ লোকসানের মুখে পড়ছে।
এদিকে মূল্যস্ফীতি কমার সরকারি দাবির বাস্তব প্রতিফলন বাজারে নেই বলেও অভিযোগ করা হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় রেস্তোরাঁ ব্যবসার খরচ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। অথচ কর্মজীবী এবং স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষ রেস্তোরাঁনির্ভর হওয়ায় মালিকদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, রেস্তোরাঁ ব্যবসা টিকিয়ে রাখা না গেলে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এ খাতে নীরব চাঁদাবাজি এবং বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আগ্রাসী প্রবেশও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এ ছাড়া দেশের অধিকাংশ স্ট্রিট ফুড দোকান অনিবন্ধিত এবং স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খাবার বিক্রি করছে। এতে একদিকে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে, অন্যদিকে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মন্তব্য করুন: