প্রকাশিত:
১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪:২৩
ভারতে অনুষ্ঠেয় আগামী মাসের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতিতে বড় ধাক্কা খেল ইংল্যান্ড। কেননা এখনো দলটির স্পিনার আদিল রশিদ ও রেহান আহমেদের ভিসা ইস্যু করেনি ভারত সরকার।
ভিসা জটিলতার কারণে পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত এই দুই ক্রিকেটার সপ্তাহান্তে দলের সঙ্গে শ্রীলংকায় যাওয়ার সম্ভাবনা কম। সেখানে শ্রীলংকার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ছয়টি প্রস্তুতি ম্যাচ রয়েছে। কবে তারা দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।
তবে এই বিলম্বে খুব একটা বিস্মিত হয়নি ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত সরকারের প্রক্রিয়ায় ইসিবি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে।
দুই বছর আগে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে খেলতে পারেননি শোয়েব বশির। ভিসা আবেদন সম্পন্ন করতে তাকে লন্ডনে ফিরে যেতে হয়েছিল। এর আগেও সাকিব মাহমুদের ভিসা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল।
ইসিবি জানিয়েছে, ভারত সরকার রশিদ ও আহমেদের ভিসা আবেদনে আপত্তি করেনি-এমন আশ্বাস তারা পেয়েছে। তবে কবে ভিসা মিলবে, তা অনিশ্চিত। প্রক্রিয়া দ্রুত করতে যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে। বর্তমানে আদিল রশিদ দক্ষিণ আফ্রিকায় এসএ২০ টি-টোয়েন্টি লিগে খেলছেন, আর রেহান আহমেদ অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে আছেন। আশা করা হচ্ছে, তারা সেখান থেকেই সরাসরি শ্রীলংকা বা ভারতে যেতে পারবেন।
ইসিবি আশাবাদী, বিশ্বকাপ শুরুর আগেই দুই স্পিনার ভিসা পেয়ে যাবেন। ৮ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা। তবে ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ হারের পর এমনিতেই চাপের মধ্যে থাকা দলের প্রস্তুতিতে এই সমস্যার প্রভাব পড়েছে।
হেড কোচ ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম অন্তত সেমিফাইনালে ওঠার লক্ষ্য রাখবেন। গত বছর তার অধীনে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে একটি ম্যাচও না জিতে বিদায় নেওয়ার পর নিজের অবস্থান নিয়েও চাপ রয়েছে। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকও বাড়তি নজরদারিতে থাকবেন-গত সপ্তাহে জানা গেছে, গত অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডে একটি ওয়ানডের আগের রাতে নাইটক্লাবে বাউন্সারের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ানোয় তাকে ৩০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছে ইসিবি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশ ও ইতালিকে নিয়ে গঠিত গ্রুপে শীর্ষ দুইয়ে থাকা ইংল্যান্ডের জন্য অসম্ভব নয়। তবে ‘সুপার এইট’ পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে অনেক বেশি কঠিন।
২২ জানুয়ারি থেকে শ্রীলংকায় তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে ইংল্যান্ড। তবে রশিদ ও রেহান সময়মতো না এলে স্পিন বিভাগে বিকল্প সীমিত থাকবে। দলে একমাত্র বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে আছেন লিয়াম ডসন। সে ক্ষেত্রে উইল জ্যাকস ও জ্যাকব বেথেলের কাছ থেকেও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বোলিং নিতে হতে পারে।
আরেকটি রাজনৈতিক জটিলতায় বাংলাদেশ–ইংল্যান্ড গ্রুপ ম্যাচের ভেন্যু নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার কারণে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশ আইসিসির কাছে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ সরানোর অনুরোধ করেছে।
ইতোমধ্যে পাকিস্তানের ম্যাচগুলো শ্রীলংকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) নাকি আইসিসির কাছে আরেকটি সূচি পরিবর্তনের বিরোধিতা করছে।
মন্তব্য করুন: