প্রকাশিত:
১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২৫
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অভূতপূর্ব প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মোট ১ হাজার ১২২টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন প্রায় সাত লাখ চাকরিপ্রার্থী। হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি পদের জন্য গড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬২৪ জন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের আওতায় পরিচালিত এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার আবেদন কার্যক্রম শেষ হয় গত বছরের ২৬ অক্টোবর। বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীকে ঘিরে এখন পরীক্ষার প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে কমিশন।
প্রধান শিক্ষক পদে আগ্রহ বাড়ার অন্যতম কারণ বেতন গ্রেডের উন্নয়ন। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ পদটি ১১তম গ্রেড থেকে উন্নীত হয়ে ১০ম গ্রেডে এসেছে। ফলে মূল বেতন শুরু হচ্ছে ১৬ হাজার টাকা থেকে, যা সর্বোচ্চ ধাপে গিয়ে দাঁড়াবে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকায়। এর আগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের মূল বেতন শুরু ছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা। বেতন কাঠামোর উন্নয়ন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির ফলে মেধাবী প্রার্থীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
**ঢাকায় একক কেন্দ্রে পরীক্ষা**
পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় সাত লাখ পরীক্ষার্থীর জন্য একযোগে পরীক্ষা আয়োজন একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পরীক্ষা ঢাকায় একক কেন্দ্রে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট। শুরুতে শূন্য পদের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ১৬৯টি। তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের পর নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোট শূন্য পদের ৮০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের নীতিমালা গ্রহণ করা হয়। এর ফলে সরাসরি নিয়োগের জন্য পদের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ১২২টিতে।
**পরীক্ষার কাঠামো**
নিয়োগ পরীক্ষা মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৯০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা থাকবে। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, দৈনন্দিন বিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি) অন্তর্ভুক্ত থাকবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর অর্জন বাধ্যতামূলক। সফল প্রার্থীরাই মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
প্রধান শিক্ষক নিয়োগে এই নজিরবিহীন প্রতিযোগিতা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান বাস্তবতায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর মধ্য থেকে কারা শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পান, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন: