বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
  • গুম-খুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে করা হবে : র‍্যাব ডিজি
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি এখনো
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া : বিএনপি
  • ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় চমক’ আছে, সতর্কতা ইরানের
  • কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • আমেরিকা-চীন-রাশিয়া: পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

৩৯ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি অনুসন্ধানে স্থবিরতা, পরিদর্শন কার্যক্রমে ভাটা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত:
১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২৯

সারাদেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রায় ৩৯ হাজার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম, নিয়োগ জালিয়াতি এবং ভুয়া সনদ শনাক্তের দায়িত্বে থাকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মিত পরিদর্শনের পরিবর্তে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের চর্চা চলছে।

সূত্র জানায়, আগের বছরের তুলনায় গত এক বছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অনেক কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে না গিয়ে দপ্তরেই সময় কাটাচ্ছেন। এতে অনিয়ম ও দুর্নীতি শনাক্তের হার কমে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু কর্মকর্তা পরিদর্শনে গেলেও ঘুষের বিনিময়ে অনিয়ম নেই—এমন প্রতিবেদন দিচ্ছেন। একই সঙ্গে জুনিয়র কর্মকর্তাদের চাপে রাখার অভিযোগ উঠেছে একাংশের সিনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

বর্তমানে দেশে এমপিওভুক্ত ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত। এসব প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত এই অধিদপ্তরে সীমিতসংখ্যক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু কর্মকর্তার নেতৃত্বে ঘুষ লেনদেনের একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে উঠেছে, যারা মাঠপর্যায়ে না গিয়ে দপ্তরে বসেই নিরীক্ষা সম্পন্ন করেন। বিনিময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ কারণে শিক্ষা প্রশাসনের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। যাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে, তাদের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে পুরো প্রক্রিয়া। সাম্প্রতিক বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ আছে, স্বল্প সময় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বদলি করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে একই পদে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা বহাল রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, একাধিক পরিদর্শক ও সহকারী পরিদর্শকের বিরুদ্ধে নিরীক্ষার নামে ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। কোথাও কোথাও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও করা হয়েছে। ভেতরের সূত্র বলছে, এক সময় সরাসরি ঘুষ নেওয়ার ঘটনা ধরা পড়ার পর পদ্ধতি বদলে গোপন স্থানে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে লেনদেন করা হচ্ছে। পরিদর্শনের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা তুলে ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পরিদর্শনের সংখ্যা কমলেও প্রতিবেদন যথাযথভাবে তৈরি করা হচ্ছে এবং সেসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিচ্ছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, পরিদর্শন ও নিরীক্ষার নামে কেউ অর্থ দাবি করলে তা লিখিতভাবে জানাতে হবে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে শত শত ভুয়া ও অগ্রহণযোগ্য সনদ শনাক্ত, বিপুল পরিমাণ সরকারি জমি উদ্ধারের সুপারিশ এবং আর্থিক অনিয়মের কারণে শত কোটি টাকার বেশি সরকারি অর্থ ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে। তবু মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে স্থবিরতা থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি দমনে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর