প্রকাশিত:
১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:৪৫
সিরিয়ার পূর্ব আলেপ্পো প্রদেশের সামরিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতার আওতায় সরে গেছে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)। এরপর দেইর হাফের, মাসকানা ও আশপাশের অন্তত ৩০টির বেশি শহর ও গ্রামে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে সিরীয় আরব সেনাবাহিনী।
সিরীয় সেনাবাহিনীর অপারেশনস ডিরেক্টরেট জানিয়েছেন, রাক্কার পশ্চিমাঞ্চলের শুয়াইব আল-জিকর সেতুর কাছে পিকেকে-সংশ্লিষ্ট যোদ্ধারা বিস্ফোরক পুঁতে রেখেছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে।
সরকারি বার্তা সংস্থা সানা জানায়, সেনাবাহিনীর দাবি, আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত সমঝোতা বাস্তবায়ন ব্যাহত করতেই এই পদক্ষেপ। সেতু উড়িয়ে দেওয়ার যে কোনো চেষ্টা চুক্তিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং এর ‘গুরুতর পরিণতি’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রাক্কার পশ্চিমাঞ্চলের দিবসি আফনান এলাকায় ড্রোন হামলায় দুই সেনা নিহত হয়েছেন। সরকারের অভিযোগ, পিকেকে-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়ারা এই হামলা চালিয়েছে। মাসকানা এলাকায়ও সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে এসডিএফ দাবি করেছে, চুক্তিতে নির্ধারিত ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সরকারি বাহিনী ভারী অস্ত্র ও ট্যাঙ্ক নিয়ে এলাকায় ঢুকে পড়ায় সংঘর্ষ হয় এবং এতে তাদের কয়েকজন যোদ্ধা নিহত হন।
দেইর হাফেরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর সেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, তল্লাশি অভিযানে এসডিএফের একটি অস্ত্রভান্ডার জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে সিরীয় সেনাবাহিনীর অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে রাক্কা প্রদেশের তাবকা এলাকায় সর্বাত্মক কারফিউ জারি করেছে এসডিএফ। সেনাবাহিনী ওই অঞ্চলের দিকে এগিয়ে আসায় এই কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর (ওচা) জানিয়েছে, আলেপ্পোয় সাম্প্রতিক লড়াইয়ের ফলে এখনও বাস্তুচ্যুত রয়েছেন অন্তত ৫৮ হাজার মানুষ।
এদিকে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশে মারিয়া ও আবদিন গ্রামের কাছে অনুপ্রবেশ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। কুনেইত্রা প্রদেশের কয়েকটি গ্রামেও ইসরায়েলি সেনা তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে।
মন্তব্য করুন: