প্রকাশিত:
২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩:১৭
ফরিদপুরের সদরপুরে এলপিজি ও সিএনজি সংকটে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে দোকানগুলোতে এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। সীমিত সরবরাহ হলেও বিক্রি হচ্ছে অতিরিক্ত দামে, প্রতি সিলিন্ডারের দাম ১৭০০-১৮০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে।
একই সঙ্গে সিএনজি সংকটকে অজুহাত দেখিয়ে থ্রি হুইলার চালকরা ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। ৮০ টাকা ভাড়ার পরিবর্তে বর্তমানে ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সদরপুরের মানুষ দৈনন্দিন যাতায়াত ও রান্নায় ভোগান্তিতে পড়েছেন।
শ্যামপুর এলাকার গৃহবধূ পাপিয়া জানান, গ্যাসের দাম বাড়ার খবর শুনে আমরা গ্যাসের চুলায় রান্না কম করেছি। খড়ির চুলায় রান্নায় সমস্যা হচ্ছে, তাই বিদ্যুৎ চুলায় রান্না করছি, যা বিদ্যুৎ বিল বাড়াচ্ছে।
উপজেলা চন্দ্রপাড়া নিবাসী সোনিয়া বলেন, ফরিদপুরে যাওয়ার আগে ভাড়া জনপ্রতি ৮০ টাকা ছিল। এখন গ্যাস সংকটের কারণে ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ভাড়া বৃদ্ধিতে আমরা কষ্টের মধ্যে আছি।
সদরপুর বাজারের এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী আশিক জানান, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে গ্যাস সংকট চলছে। ডিলাররা যমুনা ও বিএম সিলিন্ডার ১৫৫০ টাকা, বসুন্ধরা ১৭০০ টাকা বিক্রি করছেন। কেউ কেউ ১৮০০ টাকাও নিচ্ছে। যতক্ষণ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে না, দাম কমার সম্ভাবনা নেই।
সিএনজি চালক ইব্রাহিম জানান, এক মাস ধরে সদরপুর ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নেই। ১৫ কিলোমিটার দূরের কানাইপুর স্টেশন থেকে গ্যাস এনে চালাতে হয়। লিটার প্রতি ১০ টাকা ভাড়া বেড়েছে। কোনো দিন গ্যাস পাই, কোনো দিন পাই না। গাড়ি কয়েকদিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
সদরপুর ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এক মাস পর গ্যাসের গাড়ি এসেছে, কিন্তু পরিমাণ কম। গ্যাস দিয়ে দু’একদিন চলবে। এরপর কবে সরবরাহ হবে জানি না। শুনেছি গ্যাস লাইনে সমস্যা রয়েছে। তবে আমরা নির্ধারিত দামেই গ্যাস সরবরাহ করছি।
সরকার চলতি মাসের শুরুতে গ্যাসের দাম নির্ধারণ করলেও হঠাৎ করে এলপিজি ও সিএনজি সংকট শুরু হয়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে প্রভাবিত করেছে।
মন্তব্য করুন: