বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
  • গুম-খুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে করা হবে : র‍্যাব ডিজি
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি এখনো
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া : বিএনপি
  • ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় চমক’ আছে, সতর্কতা ইরানের
  • কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • আমেরিকা-চীন-রাশিয়া: পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

নিজের ওপর হওয়া যৌন হেনস্তার বর্ণনা দিলেন ইডেনছাত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩২

ইডেন কলেজের ছাত্রী জান্নাতুল তাজরিয়া অরাকে যৌন নিপীড়নের মামলায় তরুণ গায়ক আবু জাহিদ ওরফে জাহিদ অন্তুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

পরে সংবাদ সম্মেলন করে যৌন হেনস্তার বর্ণনা দেন জান্নাতুল তাজরিয়া অরা।

তিনি বলেন, আমার নাম জান্নাতুল তাজরিয়া অরা।


আমি একজন অভিনেত্রী, পাশাপাশি স্টুডেন্ট। তার নাম আবু জাহিদ ওরফে জাহিদ অন্তু। আপনারা সবাই কমবেশি তাকে চেনেন। সে একজন গায়ক।

তা ছাড়া একজন তরুণ ব্যবসায়ীও বলতে পারেন। সে বেশকিছু প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে। তার ড্রেসের এবং প্রোডাক্টের কিছু শুট হয়।
জান্নাতুল তাজরিয়া অরা বলেন, সম্প্রতি প্রোডাক্ট শুটের জন্য সে আমাকে নক করেছিল।


বলেছিল যে প্রোডাক্ট শুট করার জন্য আপনি আমার বাসায় আসেন। কারণ তার বাসায় তার স্টুডিও, অফিস সব একসঙ্গে। সে অ্যাগ্রো ফরেস্ট নামের নতুন একটা প্রজেক্টে কাজ করছে। সঙ্গে তার পোশাকের ব্যবসাও আছে। সেই উদ্দেশে আমি তার বাসায় গিয়েছিলাম।

প্রোডাক্ট শুট করার জন্য গিয়েছিলাম। তারপরে কাজের পরিকল্পনা নিয়ে সে আর আমি রুমে বসেছিলাম। একটা পর্যায়ে সে বলল যে প্রোডাক্ট শুট তো ঠিক আছে, এখন তো ড্রেস আসেনি। ১০-১২ দিন লাগবে। এসব বলার পর সে আমার প্রতি ফিজিক্যাল হ্যারাসমেন্ট শুরু করল এবং সেটাকে বলতে পারেন যৌন নিপীড়ন বা যৌন অত্যাচার। আমি এটা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলাম। সেখান থেকে সে আমার উপরে অত্যাচার শুরু করল এবং আমাকে দেখতেই পারছেন যে কীভাবে জখম করা হয়েছে। সে বারবার আমার গলা চেপে ধরছিল বিছানার মধ্যে এবং দরজা বন্ধ করে আমাকে অনেকগুলো থাপ্পড় দিয়েছে, চুল ধরে টেনেছে। আমি বারবার ওখান থেকে পালিয়ে আসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে বারবার দরজা বন্ধ করছিল এবং বারবার মারছিল বলে আমি এখান থেকে খুব সহজে বের হতে পারছিলাম না। তারপরও একটা সময় যে আমি কোনোভাবে ওখান থেকে বের হয়ে আসি।
তিনি বলেন, কয়েকদিন না, আসলে তার সঙ্গে আমার আগে থেকে সম্পর্ক ছিল। তার সঙ্গে আমার প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্কই ছিল। সেটা দেখা যায় যে অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে যখন আমি পড়ি তখন থেকেই। তখন তার কাছে আমার গিটার শেখা হতো। মূলত সেখান থেকে আমাদের পরিচয়টা হয়েছিল। তারপর একটা সময় পর তার সঙ্গে আমার একটা প্রেমের সম্পর্ক হয়। কিন্তু প্রেমের সম্পর্ক প্রথমে হয় না। সে তার বাসায় আমাকে ডেকেছিল। কারণ আমি গিটার শিখতাম এবং বাসায়ও গিটার শেখার নামে এবং গল্প আড্ডা নামে সে আমাকে বাসায় ডাকে এবং আমি যাই। যাওয়ার পরে সে আমাকে কোনোকিছু না বলেই সে আমার সঙ্গে ইন্টিমেট হয়। এটা আমার অনিচ্ছায়, এটা একটা রেপ ছিল। যার কারণে আমি সেটা নিয়ে পরে কথা বলি যে এটার পরিণতি কী? আসলে এক্ষেত্রে আমি বিয়ে করতে চাই বা একটা সম্পর্ক থাকুক। সে আমাকে একটা প্রতিশ্রুতি দেয়, একটা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়, একটা সম্পর্কের নিশ্চয়তা দেয়। সেখান থেকে আমাদের মধ্যে আস্তে আস্তে একটা প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্কে যায়। এটা চলতে থাকে। তারপরও একটা পর্যায়ে সে সম্পর্কটাকে অস্বীকার করা শুরু করে, সে বিয়ে করতেও চায় না এবং এই সম্পর্কটাকেও আর এভাবে গুরুত্ব দিচ্ছিল না। তারপর মিউচুয়ালি আমি এখান থেকে মুভ অন করার চেষ্টা করেছি যে ইটস ওকে।

তিনি আরো বলেন, মিউচুয়ালি আমরা কথা বলা অফ করে দিয়েছিলাম। আমিও তার সঙ্গে রেসপন্স করতাম না। সেও নক করত না। কিন্তু সে মাঝে মাঝে তার মনে পড়লে আমাকে নক করতো বা তার বাসায় আসার প্রলোভনা দেখাতো। বিভিন্ন কারণে কখনো প্রোডাক্ট শুটের নামে বা আপনার কিছু জিনিস আমার বাসায় রয়ে গেছে, এসব বলে আমাকে আসতে বলতো। তারপর সম্প্রতি তার সঙ্গে আমার আবার যোগাযোগ হয়। প্রোডাক্ট শুটের যে বিষয়টা বললাম। আমি যেহেতু একটা গ্যাপ স্টার্ট করে ফেলেছি, যেহেতু সে বিয়ে কিংবা সম্পর্কের নিশ্চয়তা দিতে চাচ্ছে না, তাই আমিও তার সঙ্গে সেরকম কোনো সম্পর্ক রাখতে চাচ্ছিলাম না। যেহেতু এখন সে ব্যবসা শুরু করছে এবং আমি বাইরে মডেলিং এবং অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করছি, তার কারণে প্রোডাক্ট শুটের বিষয় আমাদের একটা প্রফেশনের জায়গা থেকে কাজ করার কথা ছিল একসঙ্গে। একটা গুড রিলেশন আগে তো ছিল সেটা এবং মডেলিংয়ের খাতিরে। কিন্তু সে আসলে প্রোডাক্ট শুটের নামে, কোনো প্রোডাক্ট শুট না করে, সেই আগের যে ঘটনাগুলোরই সে পুনরাবৃত্তি করে। আমি নিজেকে রক্ষা করতে চেয়েছিলাম, যার কারণে আজকে সে আমাকে এভাবে আঘাত করে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর