শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

৪২ ডিগ্রি গরমেও থেমে নেই তাদের হাতের জাদু!

রবিউল আলম , ইবি

প্রকাশিত:
৩০ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০৩

গ্রীষ্মের তাপদাহে ৪০°থেকে ৪২° ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওটা নামায় কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। প্রখর রোদ ও তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। চারদিকে ফেঁটে চৌঁচির হয়ে পড়েছে। এদিকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ সহ দেশব্যাপী হিট এলার্ট জারি। তবে থেমে নেই তাদের হাতের জাদু। বিশেষ কোনো নজর নেই ঘর্মাক্ত শরীরের দিকে। ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বাহিরের রোদ্দুর হাওয়ায় আনমনে রংতুলি কিংবা নির্দিষ্ট ক্লাসের কোর্স শেষ করতে ব্যস্ত তারা। মূলত তারা দেখে আর লেখে। এমন সূক্ষ্ণ দৃষ্টি সবার থাকে না। বলছি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের কথা।

বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, ইনডোর ও আউটডোর নামে একাডেমিক কোর্স ম্যাপ দুই ধরণের হয়ে থাকে। বিশেষ করে ১ম ও ২য় বর্ষে আউটডোর রংতুলি অংকন কোর্সের চাপ থাকে শিক্ষার্থীদের। আউটডোর কোর্সের শিখনফল বাহিরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ইচ্ছে মতো যেকোনো বাস্তব অবয়ব জলরঙে তোলে ধরা। ক্লাসে উপস্থিতি আর অংকন সমন্বিত ৫০ মার্কস নির্ধারিত। প্রতি ব্যাচে ৩০ জন করে প্রায় ১২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান চলমান বিভাগটি।

চারুকলা বিভাগের কাজী নিশাত তাসনিম জানান, প্রায় ১২০ এর অধিক শিক্ষার্থী নিয়ে ৫ জন শিক্ষক দ্বারা পাঠদান করানো হচ্ছে। এটা শুধু শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও ঐকান্তিক সহযোগিতার জন্য সম্ভব। আমাদের চারটা ব্যাচের ক্লাসরুম এমন সংকট যে রোদ হোক তবুও বাহিরে ড্রয়িং করাটাই স্বস্তির।

তিনি আরও বলেন, নবীন ডিপার্টমেন্ট হিসেবে ড্রয়িং মেটেরিয়াল গুলো আমাদের থেকেই দিতে হয়। ফান্ডিং এর ব্যবস্থা করা হয়নি। এজন্য অনেক সময় আর্থিক খরচের কারণে অনেকের কোর্সের বাহিরে আনমনে কিছু অংকন করার জন্য সুযোগ হয়ে ওঠে না।

যুক্তা জ্যোতি নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আঁকাআকি নিয়ে কাজ করতে ভালো লাগে বলে গরম আমাদেরকে থামাতে পারেনি। আসলে আমার তিনটা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুলনা, জাতীয় কবি নজরুল ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়) চান্স হয়েছিল। ইবিই পছন্দের তালিকায় ছিল। বন্ধু বান্ধব মিলে এক সাথে কাজ করি, শেয়ারিং করি। ভালোই লাগে। মাঝে মাঝে আমাদের শিক্ষক এসে দেখায় দেয়।

গরমের মধ্যে শিক্ষকরা বিবেচনা নিতে পারতো কিনা জিজ্ঞেস করলে শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষকরা আমাদের উৎসাহ দেখে এতটুকু আগাচ্ছেন। ওনারা এই গরমে আমাদের সাথে ২ ঘন্টা কাজ করে গেছেন। এর চেয়ে ভালো লাগার আর কী হতে পারে! অন্যন্যা শিক্ষার্থীরা এসি রুমে বসে ক্লাস করতেছে এদিকে আমরা পর্যাপ্ত ক্লাসরুমের স্বপ্নই দেখি।

এবিষয়ে চারুকলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এইচ এম আক্তারুল ইসলাম বলেন, আউটডোর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সাথে কথা বলেছি, শিক্ষার্থীদের অতি উৎসাহিত দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি কোর্সের শিক্ষকরাও বাহিরে দাঁড়িয়ে তাদের দেখাশোনা করতেছে। এই গরমে যদি শিক্ষার্থীদের আপত্তি থাকে তাহলে আমরা বিবেচনায় দেখব। এদিকে ক্লাস সংকটের কারণে কোর্স মেটেরিয়াল রাখার জায়গাও পাচ্ছি না। শীঘ্রই কবি নজরুল কলা ভবনে আমাদের স্থায়ী রুম হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এতটুকুই আশ্বস্ত করতে পারি যে তারা ভালো কিছু পেতে যাচ্ছে। তাদের কম্পিউটার ল্যাবও প্রয়োজন, সুতরাং আমি কম্পিউটারের ব্যবস্থা করে দিয়ে যাব।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর