বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
  • গুম-খুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে করা হবে : র‍্যাব ডিজি
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি এখনো
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া : বিএনপি
  • ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় চমক’ আছে, সতর্কতা ইরানের
  • কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • আমেরিকা-চীন-রাশিয়া: পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সহিদা সহযোগীতা প্রয়োজন

মোঃ নাজমুল হাসান, ফুলবাড়ী ( কুড়িগ্রাম)

প্রকাশিত:
৭ মে ২০২৪, ১৩:২৫

জীবনের স্বপ্ন ছিল একজন নারী উদ্যোক্তা হয়ে অসহায় জীবন থেকে সুখ- সমৃদ্ধতায় ভরা জীবনের অধিকারী হবেন। এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি করবেন। এই স্বপ্ন বুকে ধারন করেই ২০১৫ সালের দিকে নিজ বাড়ি ছেড়ে পাড়ি জমান ঢাকায়।
কিন্তু একটি দুর্ঘটনা তার এই স্বপ্নকে নিমিষেই ধুলিসাৎ করে দেয়। সেই স্বপ্ন দেখা যুবতী সাহিদা খাতুন (২৮) এখন পঙ্গুত্ব জীবন যাপন করছেন। হাটাচলা করতে ক্রাস এখন তার জীবনসঙ্গী। সংবাদ প্রতিবেদনের এই স্বপ্নময় নারীর বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের নিভৃতপল্লী ব্যাপারিটারী গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের সহিদ মিয়ার মেয়ে।


জানা গেছে, অসহায় পিতা সহিদ মিয়ার ঘরে জন্ম নেয়া সহিদা খাতুন ছোট থেকেই অভাবী পিতা-মাতা ও ভাইবোনদের সুখ দেয়ার জন্য অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন। এরপর সে বড় হলে তার পিতা-মাতা ২০০৯ সালের দিকে সহিদাকে পাশ^র্তী এলাকার এক যুবকের সাথে বিয়ে দেয়।
এখানে সহিদার গর্ভে একপুত্র সন্তানের জন্ম হয়। সহিদার স্বামী খারাপ মানষিকতার সেটি জানতোনা সহিদা। বিয়ের পর স্বামীর মানষিক নির্যাতনের খড়ক চলে আসে তার উপর। প্রায়ই তাকে মানষিক নির্যাতন চালাতো তার স্বামী।


এক পর্যায়ে সহিদা তার বুকের পুত্র সন্তানকে নিয়ে চলে আসেন বাবার বাড়িতে। অসহায় বাবার বাড়িতে না থেকে পুত্রসন্তান সৌরভ হোসেন সজীবকে পাশ^বর্তী একটি হাফিজীয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে সহিদা খাতুন গার্মেন্টে কাজ করার জন্য ঢাকায় যান।
ঢাকার বাইপেলের একটি গার্মেন্টে সামান্য বেতনে কাজ করেও নতুনভাবে জীবন চলার পথ খুঁজে পান সহিদা। এখান থেকেই একজন নারী উদ্যোক্তা হয়ে অসহায়ত্ব থেকে সুখ- সমৃদ্ধতায় ভরা জীবনের অধিকারী হওয়ার স্বপ্ন ও এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টির স্বপ্ন দেখেন সহিদা।
কিন্তু ২০২৩ সালের একটি দুর্ঘটনা সহিদার স্বপ্নকে বাঁধাগ্রস্ত করে ফেলে। সহিদা ঢাকায় তার ভাড়া বাসার বাথরুমে পা পিছলে পড়েন। এতে তার ডান পায়ের হিটজয়েন্ট নষ্ট হয়ে যায়। এরপর গার্মেন্টে কাজ করা উপার্জিত সঞ্চয়ী অর্থ দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে শ্রীপুরের ফজিলাতুননেছা হাসপাতাল, ঢাকার ইবনেসিনা হাসপাতাল ও পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসকদের চিকিৎসা নেন।


সহিদাকে চিকিৎসা প্রদান করেন অর্থোপেটিক ডাক্তার অসিম কুমার দাস, অর্থোপেটিক ডাক্তার মাহাবুল আলম, অর্থোপেটিক ডাক্তার রুহুল আমিন ও অর্থোপেটিক ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম। প্রথমদিকে সবাই ওষুধ খাওয়ার পারামর্শ প্রদান করলেও এতে আরোগ্যলাভ না হওয়ায় পরবর্তীতে ডাক্তার অসিম কুমার দাস সহিদাকে এমআরআই করার পরামর্শ দেন।


ডাত্তারের পরামর্শে এমআরআই করা হলে রির্পোটে দেখা যায় তার ডান পায়ের হিটজয়েন্ট নষ্ট হয়েছে। নষ্ট হিট জয়েন্টের জন্য অপারেশন অপরিহার্য বলে ডাক্তাররা সহিদাকে জানান। ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের অর্থোপেটিক ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম সহিদাকে জানান, বাংলাদেশে একটি পায়ের হিটজয়েন্টের অপারেশন করাতে ৪ লাখ টাকা লাগবে। তবুও অপারেশনের পর ওই পা স্বাভাবিক হওয়ার সংশয় আছে।


তবে ভারতের চিন্নাইয়ে সফলভাবে এই অপারেশন করাতে ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলেও জানান ডাক্তার। ডাক্তারের এই পরামর্শে অসহায় সহিদা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে ভারতের চিন্নাইয়ে তার পায়ের অপারেশন করাতে চান। কিন্তু এতো টাকা সংগ্রহ করবে কি ভাবে?
এ অবস্থায় সহিদা খাতুন দেশ-বিদিশের স্ব-হৃদয়বান দানশীল মানুষের আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন। সহিদা তার হাটা চলার ক্রাস ফেলে স্বাভাবিক মানুষের মতো চলা ফেরা করার আকুতি প্রকাশ করেছেন।


অসহায় যুবতী সহিদা জানান, আমি এক অসহায় নারী। আমি একজন নারী হয়ে সকলের কাছে সবিনয় অনুরোধ করছি আমার পঙ্গুত্ব জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে আপনারা আমাকে সাহায্য করুন। আমার ব্যাংক একাউন্ট, বিকাশ, নগদ, রকেট একাউন্টে আর্থিক সাহায্য পাঠান।
অসহায় সহিদা খাতুনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে ও বিকাশ, নগদ ও রকেট একাউন্টে সাহায্য পাঠানোর জন্য-০১৭৮৮-৭৯৩১২৩-নম্বরে যোগাযোগ করুন। এছাড়াও -মোছাঃ সহিদা খাতুন- সঞ্চয়ী হিসাব নং ০২২০১৩৪৮২৩৮৫১, উপ-শাখা আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি, ফুলবাড়ী,কুড়িগ্রাম-বরাবর আর্থিক সাহায্য পাঠাতে পারেন।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর