বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
  • গুম-খুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে করা হবে : র‍্যাব ডিজি
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি এখনো
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া : বিএনপি
  • ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় চমক’ আছে, সতর্কতা ইরানের
  • কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • আমেরিকা-চীন-রাশিয়া: পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

কবিতা

অভিশাপ

এম. ডি জিয়াবুল

প্রকাশিত:
২৪ নভেম্বর ২০২৪, ১৭:৪১

আমার ভালোবাসা তোমার আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধতে
পারোনি কখনো, শব্দের মতো ঝরে গিয়ে
ছায়ার মতো সরে গিয়েছো প্রতিনিয়ত!
তোমার পৈশাচিক সিদ্ধিপ্রাপ্ত কুৎসিত রূপ আর শ্রেষ্ঠতর তেঁতো স্বাদে আমার ধ্যান ভেঙেছো।
ধ্যান ভেঙেছে তখনই– যখন গিলেছি এ তেঁতো
স্বাদ অমৃতের নির্যাসের মতো গেলাস গেলাস।

আমি গ্রাস করেছি অগুনিত কাম
প্রবৃত্তির লেলিহান শিখা,
বিস্ময়-বিস্ফারিত নেত্রে অনুভব
করেছি নষ্ট প্রণয়ের শকুনি আদর,
ক্ষতবিক্ষত করেছি সংগোপনে নিজেকে।
কি লভিলাম!! কিচ্ছুই না...

অথচ– জীবপালকের ওমের ভীষণ পরশে
আমিও নীড় হবার স্বপ্ন দেখেছি
একাকিত্বের স্নায়ু থেকে ঝেড়ে ফেলতে চেয়েছি
নির্লিপ্ত ক্লেদ, আর অসম্পূর্ণতার অঙ্গে জোড়া
লাগাতে চেয়েছি মমতার জিঞ্জির,পারিনি..!!

আজ- পাঁজরের খসে পড়া পলেস্তারের ঘুপচি
ঘরে আশ্রয় নিয়েছে আমার পোয়াতি ভাবনা,
কিলবিল করছে মস্তিষ্কের নিউরোণ।
বিবেকের কফিনে ঠুকে দিয়েছি অসহায়
গঞ্জনার শেষ পেরেক, অসংখ্য সুঁইফোঁড়ে
জর্জরিত বুকটা সাজিয়েছি নকশি কাঁথার মাঠ।

যখন বিশ্বাসের দরজায় চলে অবিশ্বাসের তল্লাশি–

অমীমাংসিত সবকিছুর অবসান হয় তখন,
আর আমি মৃতের মতো ফুরিয়ে যাই,
আবার পথিকের মতো ক্লান্ত হয়ে উদ্দেশ্যহীন
যাত্রায় ধূসর অনুভবের পথে হেঁটে যাই–
নিঃসঙ্গ ডাহুকের মতো।

আমি ক্রমাগত এগিয়ে চলছি কোলাহল থেকে
একটি অন্ধকার রাজত্বের দিকে, আমার সব স্বাদ,

রুচি-অভিরুচির যাবতীয় চিহ্ন মুছে নিয়েছো তুমি!

তোমার তপ্ত নিঃস্বাসের নিঃশব্দ এক নিনাদে ভারী করেছো আমার অতলান্তিক মন।

প্রতিদিন যন্ত্রণার শিশির থেকে সৃষ্টি হয় প্রবল জলোচ্ছ্বাস!

তিব্র বর্ষণের লোচন গলে বেদনার রাজপ্রাসাদ,

অবহেলার কালিতে তৈরী হয়
ভারাক্রান্ত হৃদয়ের বামপাশটা।

এখন আমার অস্তিত্বের কাঠামোতে ছেয়ে
গেছে তোমার বিষাক্ত লালায়!
জিভ,গলা,শ্বাসনালী বেয়ে দংশন করেছে ফুসফুস।
তুমি দেখে আসতে পারো–একটা ভিসুভিয়াস
বুকে কিভাবে বেঁচে আছি! তুমি দেখতে
এসো লিভারের অ্যালকোহলের তাণ্ডব।

একদিন ঘোর লাগা পতনের ছায়াচিত্র স্থির হবে,

চেতনালুপ্ত অন্ধকারে ঢেকে দিবে আমার চোখ,
কান্নারা পাথর হয়ে ছিটকে পড়বে কুর্ণিয়ার কোটরে,
মধ্যপ্রচ্ছের তীব্র তপ্ত বাতাসের মতো
প্রবেশ করবে বুকের গহীন থেকে গহীনে।
আজ যে নদী শুকিয়ে কাঠ– তার বুকে
মিথ্যে গঙ্গার জল না ঢাললেও পারতে তুমি!

এখন শূন্যতার বুকে অক্ষুব্ধ পাখি হয়ে উড়ে বেড়াই,

বক্ষ-কোটরে আস্ত শ্মশানের দহন আমাকে পুড়িয়ে অঙ্গার করে–

আর বর্ষিত হয় তোমার প্রতি নিশ্চেষ্ট অভিশাপ আর অভিশাপ...


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর