শুক্রবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৫ই ফাল্গুন ১৪৩১ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • নতুন দলের নাম ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’
  • ন্যূনতম সংস্কার করে দ্রুত নির্বাচনের আহ্বান খালেদা জিয়ার
  • গণহত্যাকারীদের পুনর্বাসনের ফাঁদে বিএনপি পা দেবে না
  • বেক্সিমকো পার্কের লে-অফ করা ১৪ প্রতিষ্ঠান ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ
  • ‘স্বৈরাচারের দোসররা গুজব ছড়িয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক কাজকে দমাতে চাইছে’
  • নিরাপদ পানিকে মৌলিক অধিকার ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়
  • দায়িত্বে অবহেলা হলে কঠোর ব্যবস্থা
  • সাংবাদিকদের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের মেয়াদ হবে ৩ বছর
  • খাদ্যে ভেজাল রোধে বিএসটিআইয়ের বিশেষ অভিযান চলবে
  • পরিবেশ ধ্বংস রোধে আমাদের সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে

খালেদা জিয়ার পজেটিভ রাজনৈতিক বার্তা

সুমন প্রামাণিক

প্রকাশিত:
২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১৮:৫৫

বিএনপির বর্ধিত সভায় বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বক্তব্যটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে, বর্তমান সময়ে যখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে তীব্র পারস্পরিক সমালোচনা ও নেতিবাচক মন্তব্যের প্রভাব বেশি, তখন খালেদা জিয়ার এমন ইতিবাচক ও সমঝোতাপূর্ণ ভাষণ বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। তার বক্তব্যে কোথাও তিনি আওয়ামী লীগ বা শেখ মুজিবের পরিবার সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেননি , বরং তিনি সবার প্রতি একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এমনকি বিএনপির অতীত নেতৃবৃন্দের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং বাংলাদেশের উন্নতির জন্য যৌথ সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।

এমন পজেটিভ রাজনীতি নতুন বাংলাদেশের জন্য আশার সঞ্চার করতে পারে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেখানে প্রায়ই একে অপরকে ছোট করতে, আক্রমণ করতে এবং নিন্দা করতে দেখা যায়, সেখানে খালেদা জিয়ার এমন মনোভাব প্রশংসনীয়। তিনি যে বার্তা দিয়েছেন, তা মূলত রাজনৈতিক শ্রদ্ধা, সম্মান এবং ঐক্য প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রসর হওয়া। এমন একটি রাজনীতির মাধ্যমেই দেশের ভবিষ্যত উজ্জ্বল হতে পারে।

নতুন প্রজন্মের জন্য এটি একটি মূল্যবান শিক্ষা। রাজনীতির শিক্ষাগ্রহণের সময় নেতিবাচক মন্তব্য বা আক্রমণ থেকে বিরত থাকার গুরুত্ব তাদের মধ্যে একধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মের কাছে যে বার্তা পৌঁছেছে, তা হলো, রাজনৈতিক সংগ্রাম শুধু ক্ষমতা দখল নয়, বরং দেশের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করা এবং একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করা।

বাংলাদেশে এখন তরুণদের মধ্যে নানান ধরনের রাজনৈতিক চেতনা তৈরি হচ্ছে, তবে তাদের জন্য একটি সৎ, নির্মল এবং সমঝোতাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ খুবই প্রয়োজনীয়। খালেদা জিয়ার এই ইতিবাচক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তাদের জন্য একটি ভালো উদাহরণ হতে পারে। তিনি যে কথা বলেছেন, "দলের চেয়ে দেশ বড়," তা নতুন প্রজন্মকে দেশের কল্যাণের জন্য নিবেদিত হতে অনুপ্রাণিত করবে।

অতএব, খালেদা জিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং আগামী দিনে এটি একটি সঠিক পথচিহ্ন হিসেবে কাজ করতে পারে। তার বক্তব্যের মাধ্যমে, রাজনীতির স্বচ্ছতা, সম্মান এবং সম্মিলিত চেষ্টা বয়ে আনতে সক্ষম হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয়।

বাংলাদেশের রাজনীতি অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত নানা উত্তাল ঘটনা ও রাজনৈতিক সংগ্রামের সাক্ষী। রাজনীতির মাঠে প্রতিনিয়ত নানা নেতিবাচক মন্তব্য, সমালোচনা, একে অপরকে অপমান এবং বিরোধী দলগুলোর প্রতি আক্রমণের ঘটনা ঘটে থাকে। তবে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গতকালের বক্তব্যটি এক নতুন ধরনের রাজনৈতিক পদ্ধতির ইঙ্গিত দেয়, যেখানে নেতিবাচক রাজনীতি থেকে দূরে গিয়ে ইতিবাচক রাজনীতির দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। তার এই বক্তব্য রাজনীতির মাঠে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য।

বর্তমান সময়ে রাজনীতির মাঠে নেতিবাচকতার পরিবর্তনে কাজ করছে বিএনপি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেরা এবং সবচেয়ে কার্যকরী নেতারা কখনোই একে অপরকে বাজে ভাষায় আক্রমণ করেননি। প্রকৃত রাজনৈতিক নেতারা জনগণের স্বার্থে কাজ করার মাধ্যমে দেশের উন্নতির জন্য সংগ্রাম করেছেন। বর্তমান সময়ে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিনিয়ত একে অপরকে আক্রমণ করার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, সেখানে খালেদা জিয়ার বক্তব্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। বিএনপি প্রধান হিসেবে খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে একদিকে যেমন দলীয় ঐক্য ও সংহতির কথা বলেছেন, তেমনি দেশের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে উৎসাহিত করেছেন।

এই অবস্থায়, রাজনৈতিক নেতাদের একে অপরকে ছোট করতে বা শত্রু পরিণত করার প্রবণতা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি পরস্পরের প্রতি তীব্র সমালোচনা করে চলেছে, এবং এতে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও অস্থির হয়ে উঠছে। খালেদা জিয়া তার বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, পারস্পরিক সম্মান এবং ঐক্যের ভিত্তিতে যদি রাজনীতি পরিচালনা করা যায়, তবে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে। তিনি এমন একটি সময়কে সামনে রেখেছেন যখন রাজনৈতিক দলগুলো একত্রিত হয়ে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করবে।

খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক সংগ্রাম, ত্যাগ এবং অর্জন রয়েছে। তিনি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে কাজ করেছেন। তবে তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে এক বিশেষ দিক উঠে এসেছে, যা তার রাজনৈতিক দর্শনকে নতুনভাবে চিহ্নিত করে। তিনি বলছেন, "ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়।" এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা, যা জাতির বৃহত্তর স্বার্থের দিকে মনোযোগ দেয়।

খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, তা হলো, রাজনৈতিক সংগ্রাম কখনোই শুধুমাত্র একটি দলের বিজয়ের জন্য হতে পারে না। বরং এটি দেশের ভবিষ্যত, গণতন্ত্র এবং জনগণের কল্যাণের জন্য হতে হবে। তার মতে, "দেশ বড়"–এর মানে হলো, দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। এটি এমন একটি বার্তা, যা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন ধরনের শ্রদ্ধা, ঐক্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতা তৈরি করতে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশের বর্তমান যুব সমাজ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন। তারা দেশের ভবিষ্যত, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে অনেক আগ্রহী। তবে, দীর্ঘদিন ধরে তাদের মাঝে নেতিবাচক রাজনীতির সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনীতির এই নেতিবাচক চরিত্রের মধ্যে প্রতিদিনই একে অপরকে আক্রমণ এবং অপমানের ঘটনা ঘটছে। এটি তরুণদের জন্য একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খালেদা জিয়ার বক্তব্য সেই তরুণদের জন্য এক নতুন পথপ্রদর্শক হতে পারে। তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে যে বার্তা দিয়েছেন, তা হলো—রাজনীতির মাঠে সংঘর্ষ নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা উচিত। তিনি নিজে তার বক্তব্যের মাধ্যমে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহানুভূতি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। নতুন প্রজন্মের কাছে, যারা আগামী দিনের নেতা হবে, এটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান শিক্ষা।

রাজনীতির খারাপ দিক থেকে দূরে গিয়ে, খালেদা জিয়া তরুণ প্রজন্মকে একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "দলের চেয়ে দেশ বড়," যা তরুণদের মনে গভীর প্রভাব ফেলবে। দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের সমর্থনে এবং মানুষের অধিকারের পক্ষে কাজ করার জন্য তাদের মধ্যে এক নতুন চেতনা তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেক সময়ই চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। দেশের গণতন্ত্র শক্তিশালী হওয়ার পরিবর্তে তা দুর্বল হয়ে যায় যখন রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরকে অপমান করে, একে অপরের বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ তোলে এবং জনগণের সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়।

তবে, খালেদা জিয়ার বক্তব্য বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি নতুন দিক উন্মোচন করেছে। তার ভাষণে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেছেন, "গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।" এটি একটি একসাথে কাজ করার আহ্বান, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করবে।

খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্য একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ার দিকে নেতৃত্ব দিতে পারে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো যদি একযোগে কাজ করে, তবে তারা গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করতে এবং জনগণের উন্নতির জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।

খালেদা জিয়া রাজনীতিতে যে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা বলেছেন, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও পরিণত করতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবেশে যে হানাহানি এবং সংঘর্ষ রয়েছে, তা আসলে দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির পথে একটি প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে।

তবে, খালেদা জিয়ার বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশে এমন একটি পরিণত রাজনৈতিক পরিবেশের সূচনা হতে পারে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরকে সম্মান করবে এবং দেশের কল্যাণে একত্রিত হবে। একযোগভাবে কাজ করার মাধ্যমে তারা জনগণের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে সক্ষম হবে, যা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠা এবং দেশের উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তা হলো, রাজনৈতিক সংগ্রাম কখনোই শুধুমাত্র একজন নেতার জন্য নয়, বরং দেশের জনগণের স্বার্থে হতে হবে। তার মতে, দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য যেসব সংগ্রাম হয়েছে, তা দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং জনগণের উন্নতির জন্য ছিল। এর মধ্যে বহু নেতা শহীদ হয়েছেন এবং অনেকেই জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এই সংগ্রাম এবং ত্যাগের মূল্য জনগণের কাছে অমর থাকবে। খালেদা জিয়ার এই বক্তব্য দেশের জনগণকে একত্রিত করার এবং তাদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সহায়ক হতে পারে।

খালেদা জিয়ার বক্তব্যটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে। তার এই বক্তব্য দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে এবং তাদের মধ্যে সৎ, নির্মল এবং সমঝোতাপূর্ণ রাজনীতির চেতনা সৃষ্টি করবে। তার নেতৃত্বে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো একত্রিত হয়ে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করবে, এবং এটি দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

লেখক: সম্পাদক দৈনিক নাগরিক সংবাদ।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর