বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
  • গুম-খুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে করা হবে : র‍্যাব ডিজি
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি এখনো
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া : বিএনপি
  • ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় চমক’ আছে, সতর্কতা ইরানের
  • কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • আমেরিকা-চীন-রাশিয়া: পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

শিশুদের জন্য পৃথক আদালত প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তকে স্বাগত ইউনিসেফের

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত:
২৪ মার্চ ২০২৫, ১৫:১০

বাংলাদেশ সরকার শিশুদের জন্য পৃথক আদালত প্রতিষ্ঠার যে সিদ্ধান্ত সম্প্রতি নিয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছে ইউনিসেফ।

সোমবার (২৪ মার্চ) ইউনিসেফ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই আদালত শিশুবান্ধব বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যেখানে শিশুদের অধিকার ও কল্যাণ সমুন্নত থাকবে।

এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদসহ (ইউএনসিআরসি) আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আলোকে প্রণীত শিশু আইন, ২০১৩ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেছেন, অনেকে ক্ষেত্রে দেখা যায়, যেখানে শিশুর সমাজকল্যাণ ব্যবস্থার আওতায় সহায়তা প্রয়োজন, সেখানে তাকে ফৌজদারি বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতে একটি শিশুবান্ধব ব্যবস্থা পাওয়া, পুনর্বাসনের প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়টি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। এটা এমন একটা ব্যবস্থা যেখানে শাস্তি দেওয়া নয়, পুনর্বাসনের লক্ষ্যে কাজ করা হবে।

শিশুদের জন্য পৃথক আদালত প্রতিষ্ঠা আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুদের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই আদালতগুলো শাস্তির পরিবর্তে পুনর্বাসনের ওপর জোর দিয়ে শিশুদের জন্য বিশেষায়িত আইনি ও সামাজিক সেবা দেবে এবং প্রশিক্ষিত বিচারক ও আইন পেশা সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে শিশু-সংবেদনশীল পরিবেশে বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়ে শিশুদের জন্য পৃথক আদালত গঠনের এই সিদ্ধান্ত এসেছে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণবিক্ষোভের পরে, যেখানে তরুণেরা ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও আরও ভালো সুযোগের দাবি তুলেছিল। তাদের সেই দাবিগুলো শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সহিংসতা, বঞ্চনা ও অন্যায়ভাবে আটক হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

দুঃখের বিষয় গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ওএইচসিএইচআর-এর প্রতিবেদন১ অনুযায়ী, ২০২৪ এর আন্দোলনের সময় প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে শিশুদেরও নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং প্রায়ই তাদের অনেককে থানায়, গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান কার্যালয় ও কারাগারে আটক রাখা হয়েছিল। সেখানে তারা নির্যাতন, খারাপ আচরণ এবং স্বীকারোক্তি আদায়ে জোরজবরদস্তিসহ অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছিল।

তরুণদের ওই আন্দোলন বাংলাদেশের তরুণদের শক্তি ও নেতৃত্বগুণ দেখিয়েছে। তাতে শিশুদের অধিকার ও সম্ভাবনার সহায়ক এমন নীতি গ্রহণের গুরুত্ব সামনে চলে আসে। এই সংস্কার হলো তাদের সেই সব দাবি-দাওয়ার সরাসরি প্রতিফলন, যার মাধ্যমে সকল শিশুর ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার ও ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে এবং পুনর্বাসনের ধারণা বাস্তবায়িত হবে। একই সঙ্গে ওএইচসিএইচআর-এর প্রতিবেদনে শিশুদের ওপর নিষ্ঠুরতার যে চিত্র উঠে এসেছে, তার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

ইউনিসেফ এই সংস্কার বাস্তবায়নে সহায়তার লক্ষ্যে সরকার, বিচার বিভাগ, সুশীল সমাজ ও তরুণদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর আওতায় আদালত প্রতিষ্ঠা, বিচার সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং শিশুদের সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতে সমাজসেবার ব্যবস্থাগুলো শক্তিশালী করতে সহায়তা দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ এসব জরুরি সংস্কারের দিকে এগিয়ে চলায় ইউনিসেফ শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পরিবর্তে সংশোধন, পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার এবং পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব দেয় এমন বিচার ব্যবস্থা কায়েমের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে এসব আদালতের সাফল্য নিশ্চিতে শিশুদের জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, আইনি সহায়তা সম্প্রসারণ ও সহজলভ্য করা এবং মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা সেবার সমন্বয় অপরিহার্য বলে মনে করছে ইউনিসেফ।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর