শনিবার, ১৪ই মার্চ ২০২৬, ৩০শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন
  • রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে উত্তাপ, মুখোমুখি সরকার–বিরোধী দল
  • ১৫ আগস্ট শোক দিবস বাতিল, বহাল থাকলো আগের সিদ্ধান্ত
  • নির্বাচন নিয়ে নতুন বিতর্ক, নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা
  • সংসদের সামনে এনসিপির অবস্থান, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন দাবি
  • বাংলাদেশের ওপরও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত
  • ইরান যুদ্ধে নতুন কৌশল, ‘প্ল্যান বি’তে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে অঙ্গীকার করল বাংলাদেশ-পাকিস্তান

ডেস্ক রির্পোট

প্রকাশিত:
২৯ জুলাই ২০২৫, ১৩:০০

জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত ‘টু-স্টেট সল্যুশন’ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে বসেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। সোমবার (২৮ জুলাই) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে সম্মত হয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের নেতারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করেছেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া, শিগগিরই উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের মাধ্যমে যোগাযোগ ও মানুষে-মানুষে সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়েও একমত হয়েছেন তারা।

বৈঠকে গাজায় চলমান মানবিক সংকট এবং ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দুই নেতা ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি অটল সংহতি জানিয়ে চলমান সম্মেলন থেকে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর থেকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক বরফ গলতে শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের প্রতি কড়া অবস্থান রাখা ঢাকার আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে নতুন সরকারের শাসনামলে। ফলে দুই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণ এশীয় দেশের মধ্যে বাস্তবমুখী ও অগ্রগতিমূলক সম্পর্ক গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়।

এই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি ঢাকায় তার বাংলাদেশি সমকক্ষ (স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা) লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকারে এক ঐতিহাসিক চুক্তি হয়, যা ভবিষ্যতের বাণিজ্য ও রাষ্ট্রীয় যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

চীনপ্রভাবিত নতুন আঞ্চলিক বাস্তবতায়, এবং সার্কের মতো ঐতিহ্যবাহী জোটগুলোর গুরুত্ব কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ নিজেদের পররাষ্ট্রনীতিকে পুনর্বিন্যাস করছে।

উভয় দেশই এখন অতীতের টানাপড়েনের বাইরে এসে উন্নয়ন, বাণিজ্য ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ভিত্তিতে ইস্যুভিত্তিক সহযোগিতা গড়ার দিকে মনোযোগী হচ্ছে।

সম্প্রতি পাকিস্তান তার দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে নতুনভাবে সম্পর্ক গড়ে তুলতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। মুসলিম বিশ্বের ঐক্য দৃঢ়করণ এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখাই এর অন্যতম লক্ষ্য।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ অস্থায়ীভাবে পাকিস্তানি কূটনীতিক ও পণ্যের ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতি এনেছে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর