শনিবার, ১৪ই মার্চ ২০২৬, ২৯শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন
  • রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে উত্তাপ, মুখোমুখি সরকার–বিরোধী দল
  • ১৫ আগস্ট শোক দিবস বাতিল, বহাল থাকলো আগের সিদ্ধান্ত
  • নির্বাচন নিয়ে নতুন বিতর্ক, নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা
  • সংসদের সামনে এনসিপির অবস্থান, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন দাবি
  • বাংলাদেশের ওপরও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত
  • ইরান যুদ্ধে নতুন কৌশল, ‘প্ল্যান বি’তে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫

সোনালী আঁশ ছাড়ানো কাজে ব্যস্ত কৃষক

মুহাইমিনুল হক, মনিরামপুর (যশোর)

প্রকাশিত:
১৮ আগষ্ট ২০২৫, ১৮:৪১

মণিরামপুর উপজেলার কৃষক-কৃষানীরা পাটের আঁশ ছাড়ানো ও সংরক্ষণ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ বছর মনিরামপুরে পাটের উৎপাদন অন্যান্য বছরের তুলনায় ফলন কম কিন্তু দাম ভালো হয়েছে। কৃষকদের মতে, সঠিক সময়ে চাষাবাদ কিন্তু উপযুক্ত জলবায়ু এবং আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এর মূল কারণ।

এই বছর উর্বর জমিতে পাট চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কৃষকদের উৎপাদনেও যথেষ্ট গতি এসেছে। উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব মাহমুদা আক্তার জানান, উপজেলার অধিকাংশ জমিতে পাটের ফলন ভালো হয়েছে। পাট চাষের জন্য উপযুক্ত জলবায়ু এবং পরিবেশ এই অঞ্চলের কৃষকদের জন্য দারুণ সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

এছাড়া পাট কাটার পরই পানিতে জাক দিয়ে ভিজিয়ে সপ্তাহখানেক পানিতে ডুবিয়ে রাখার পর শুরু হয় পাট গাছ থেকে আঁশ ছাড়ানোর মহাযজ্ঞ। এই প্রক্রিয়া একটি সময়সাপেক্ষ এবং দক্ষতা প্রয়োজনীয় কাজ, যেখানে পাটের আঁশকে পাট গাছ থেকে আলাদা করা হয়। পাটের আশ ছাড়ানো শ্রমসাধ্য হলেও এর মধ্য দিয়ে কৃষকরা ভালো মুনাফা অর্জন করেন।

স্থানীয় কৃষক আলম সরদার (৪০) জানান তারা পুরুষ ও মহিলারা একত্রিত হয়ে তাদের কাজ ভাগ করে নেন। কেউ পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ করেন কেউবা আবার ছাড়ানো আঁশ পানিতে পরিষ্কার করেন। এরপর তা শুকানোর জন্য বিভিন্ন গাছের সাথে বাঁশ অথবা রশি বেঁধে আড়া বানিয়ে রোদে দেন। তারপর ৫ থেকে ৭ দিন শুকানোর পর তা সংরক্ষণ করে উপজেলার বিভিন্ন হাটে বিক্রির জন্য নেওয়া হয়, অনেক সময় দেখা যায় পাট কেনার পাইকার বাড়িতেও আসেন ক্রয় করার জন্য।

এছাড়া পাট গাছের কাঠি (খড়ি) দিয়ে বানানো হয় নানা ধরনের বেড়া, রান্না ঘরের চালা ও রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।

উপজেলার কৃষকরা পাট সংরক্ষণের জন্য প্রাচীন পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। পাট গুছিয়ে স্টোর করা, পাটের মাপ অনুযায়ী প্যাকেট তৈরি করা এবং পরে সেগুলো সঠিকভাবে শুকানোর মাধ্যমে পাটের মান বজায় রাখা হচ্ছে। বর্তমানে কৃষকদের মধ্যে পাট সংরক্ষণ নিয়ে বেশ সচেতনতা তৈরি হয়েছে এবং তারা প্রশিক্ষণও গ্রহণ করছে। পাট ব্যবসায়ী শফিয়ার বেপারীর সাথে কথা বলে জানা যায়, পাটের উৎপাদন ভালো হওয়ার কারণে এই বছর পাটের বাজার মূল্যও তুলনামূলকভাবে ভালো।

কৃষকরা তাদের পাট বিক্রি করে ভালো লাভ পাচ্ছেন। মনিরামপুরের উপজেলার পাট বিক্রির জন্য কিছু স্থানীয় বাজারে অত্যন্ত ভালো পরিবেশ রয়েছে, যেখানে কৃষকরা তাদের পাট সরাসরি বিক্রি করতে পারেন। সরাসরি বাজারে বিক্রি করলে কৃষকরা মধ্যস্বত্বভোগীদের দখলে পড়েন না, ফলে তারা তাদের পরিশ্রমের পূর্ণ মূল্য পাচ্ছেন। এর ফলে কৃষকরা আগের বছরের তুলনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আরও বেশি আয় করতে পারছেন।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর