শুক্রবার, ১৩ই মার্চ ২০২৬, ২৯শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন
  • রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে উত্তাপ, মুখোমুখি সরকার–বিরোধী দল
  • ১৫ আগস্ট শোক দিবস বাতিল, বহাল থাকলো আগের সিদ্ধান্ত
  • নির্বাচন নিয়ে নতুন বিতর্ক, নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা
  • সংসদের সামনে এনসিপির অবস্থান, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন দাবি
  • বাংলাদেশের ওপরও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত
  • ইরান যুদ্ধে নতুন কৌশল, ‘প্ল্যান বি’তে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫

তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর

বাঞ্ছারামপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়

মো. আবু রায়হান চৌধুরী, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

প্রকাশিত:
২৭ আগষ্ট ২০২৫, ১৩:১৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগে উঠে এসেছে প্রশাসনিক ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক দুর্নীতি ও নীতিবহির্ভূত কার্যকলাপের চিত্র।

সূত্রমতে, সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক নিয়োগপত্র ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষককে নিয়োগপত্র ছাড়া দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই।

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির রেজুলেশন ছাড়াই নিজের বেতন বৃদ্ধি করেছেন, যা আইনগতভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ। পাশাপাশি, বিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক লেনদেনে নেই কোনো স্বচ্ছতা সমস্ত খরচে অনুপস্থিত বিল-ভাউচার এবং ব্যয়ের কোনো বৈধ প্রমাণপত্র নেই।

স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, এসএসসি ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হয়েছে। এবং নগদ লেনদেনকে প্রাধান্য দিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন এড়িয়ে যাচ্ছেন। যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতির পরিপূর্ণ উদাহরণ।

অভিযোগ আরও রয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজ পছন্দমতো কিছু শিক্ষার্থীর বেতন মওকুফ করেন, অথচ এ সংক্রান্ত কোনো নীতিমালা বা সিদ্ধান্ত গভর্নিং বডিতে গৃহীত হয়নি।

তাছাড়া, শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতায় নাম অনুপস্থিত, অনেক শ্রেণির রেজিস্টার খাতা পর্যন্ত নেই যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির জ্বলন্ত প্রমাণ। শিক্ষকগণের স্বাক্ষর ছাড়া বেতন প্রদান, গভর্নিং বডির সভায় অনীহা, এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া, বিদ্যালয়ের ভিতরেই আবাসিক কোচিং বাণিজ্য চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম মোস্তফা বলেন, এই বিষয়টি স্কুল কমিটির সাথে কথা বলেন। এডহক কমিটির সভাপতি মোঃ সগীর আহমেদ বলেন, এই বেতনে কোন শিক্ষক পাচ্ছি না বিধায় ওনাকে দিয়ে কাজ চালাচ্ছি।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ জুলফিকার হোসেন বলেন, আমি বিষয়টি শুনলাম, তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফেরদৌস আরা বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে এই অনিয়ম দুঃখজনক বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমন ভয়াবহ অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় জনগণ, শিক্ষক সমাজ ও সচেতন মহল সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর