শুক্রবার, ১৩ই মার্চ ২০২৬, ২৯শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন
  • রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে উত্তাপ, মুখোমুখি সরকার–বিরোধী দল
  • ১৫ আগস্ট শোক দিবস বাতিল, বহাল থাকলো আগের সিদ্ধান্ত
  • নির্বাচন নিয়ে নতুন বিতর্ক, নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা
  • সংসদের সামনে এনসিপির অবস্থান, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন দাবি
  • বাংলাদেশের ওপরও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত
  • ইরান যুদ্ধে নতুন কৌশল, ‘প্ল্যান বি’তে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫

প্রতিদিন ঝুঁকিতে হাজারো প্রাণ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবৈধ অটোরিকশা, সিএনজির দৌরাত্ম্য

রাসেল হোসাইন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) 

প্রকাশিত:
৩০ আগষ্ট ২০২৫, ১৬:৪৭

দেশের ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। প্রতিদিন ব্যবহৃত হয় লাখো যাত্রী ও হাজারো পণ্যবাহী যানবাহনের দ্বারা। এ সড়ক রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ পুরো দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রধান রক্তধারা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এ মহাসড়কে বিশেষ করে কাঁচপুর থেকে মেঘনাঘাট পযন্ত অবৈধ ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও সিএনজি চালিত যানবাহনের দৌরাত্ম্যে দিন দিন বহুগুণ বেড়েছে এরই সাথে বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

আইন অনুযায়ী মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮–এর ধারা অনুযায়ী এসব যানবাহন মহাসড়কে চলতে পারবে না। তবুও দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাজার হাজার ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজি মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছে প্রশাসনের নাকের ডগায় । বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকার কাঁচপুর থেকে মেঘনাঘাট অংশে এ সমস্যা সবচেয়ে প্রকট আকার ধারণ করেছে।

বাস ও ট্রাক চালকদের অভিযোগ, হঠাৎ করেই ধীরগতির এসব অটোরিকশা মহাসড়কের মাঝখানে উঠে আসে। এতে একদিকে তৈরি হয় ভয়াবহ যানজট, অন্যদিকে ঘটে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের দাবি, শুধু গত কয়েক মাসেই এসব যানবাহনের কারণে অন্তত কয়েক ডজন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, আহত হয়েছেন শতাধিক।

অন্যদিকে যাত্রীদেরও ভোগান্তির শেষ নেই। দূরপাল্লার বাস ও ট্রাক মহাসড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে। এতে শুধু যাত্রীরা বিপাকে পড়ছেন না, পণ্য পরিবহনেও ঘটছে বড় ধরনের ক্ষতি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিত্যপণ্যের পরিবহন ব্যাহত হলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

হাইওয়ে পুলিশ বলছে, তারা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এবং অনেক অটোরিকশা জব্দ করা হচ্ছে। তবে জনবল স্বল্পতা, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের প্রভাব এবং কিছু জায়গায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে এসব যানবাহনের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন। এ সড়কে ধীরগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করা না গেলে শুধু প্রাণহানিই বাড়বে না, জাতীয় অর্থনীতিও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। তারা প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বিকল্প গ্রামীণ সড়কে এসব অটোরিকশা সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, সরকার ও প্রশাসন যদি কার্যকর ব্যবস্থা নেয় তবে মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দুর্ঘটনা কমবে। তা না হলে দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত এ মহাসড়ক যাত্রীদের কাছে আতঙ্কের আরেকটি নাম হয়ে দাঁড়াবে অবৈধ ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা ও সিএনজি।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর