শুক্রবার, ১৩ই মার্চ ২০২৬, ২৯শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন
  • রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে উত্তাপ, মুখোমুখি সরকার–বিরোধী দল
  • ১৫ আগস্ট শোক দিবস বাতিল, বহাল থাকলো আগের সিদ্ধান্ত
  • নির্বাচন নিয়ে নতুন বিতর্ক, নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা
  • সংসদের সামনে এনসিপির অবস্থান, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন দাবি
  • বাংলাদেশের ওপরও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত
  • ইরান যুদ্ধে নতুন কৌশল, ‘প্ল্যান বি’তে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫

পলাশবাড়ীর কোমরপুরে শিবসহ শতাধিক দেব-দেবীর নান্দনিক মন্দির

মোঃ আল আমিন, গাইবান্ধা 

প্রকাশিত:
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৫:৪৮

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্যরামচন্দ্রপুর (নয়াপাড়া) গ্রামে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির। বিশাল এ মন্দিরে স্থাপন করা হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় ৩০ ফুট উচ্চতার শিব বিগ্রহসহ ১৪৪টি দেব-দেবীর প্রতিমা। নান্দনিক কারুকাজে সজ্জিত এই মন্দির ইতোমধ্যেই দেশ-বিদেশের ভক্ত ও দর্শনার্থীদের কাছে একটি জনপ্রিয় তীর্থস্থান ও মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

মন্দিরে প্রবেশপথেই চোখে পড়বে খালের ওপর আধুনিক নকশার সেতু ও আকর্ষণীয় প্রবেশদ্বার। ভেতরে প্রবেশ করলেই দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাচ্ছে বিশাল শিব বিগ্রহ। শুধু শিব নয়, কৃষ্ণ, দেবী কালী, লোকনাথ বাবা, শিব-পার্বতী, রাধা-কৃষ্ণসহ অসংখ্য প্রতিমা শোভা পাচ্ছে এখানে। প্রতিমা নির্মাণ কাজ এখনো চলমান রয়েছে।

মন্দির চত্বর জুড়ে রয়েছে হরিনাম কীর্তনের স্থান, রঙিন ফুলের বাগান, আধুনিক কারুকাজ, শিশুদের জন্য সুইমিং পুল ও বিনোদনের খোলা পরিবেশ। কালী মন্দিরের সিঁড়িতে ব্যতিক্রমী ঝর্ণাধারা দর্শনার্থীদের বাড়তি আনন্দ দিচ্ছে। সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে পানির ঝর্ণায় ভিজে ভক্তরা পৌঁছে যাচ্ছেন দেবতার সান্নিধ্যে।

প্রতিদিন হাজারো মানুষ মন্দির প্রাঙ্গণে ভিড় করছেন। সবার জন্য রয়েছে প্রসাদের ব্যবস্থা। সারাদিন ধরে শত শত ভক্তকে একসঙ্গে প্রসাদ গ্রহণ করতে দেখা যায়, যা এক অনন্য দৃশ্য।

দর্শনার্থী নওগাঁর সঞ্জয় কর্মকার বলেন, “এখানে এসেই মন ভরে গেছে। প্রতিমাগুলো এত সুন্দরভাবে তৈরি করা হয়েছে যে কেউ দেখলে মুগ্ধ হবে। এটা নিঃসন্দেহে এক তীর্থস্থান।”

আরেক দর্শনার্থী ময়না রায় জানান, “মন্দিরটি দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। সবচেয়ে ভালো লাগে বারবার মাইকে বলা হচ্ছে—‘প্রসাদ না নিয়ে কোনো ভক্তবৃন্দ যাবেন না।’”

মন্দির প্রতিষ্ঠাতা শ্রী হরিদাস বাবু জানান, শুধু উপাসনালয় নয়, এখানে তৈরি করা হবে বৃদ্ধাশ্রম, আবাসিক ব্যবস্থা, ধর্মীয় শিক্ষালয় ও মেডিকেল কলেজ। এতে মন্দির ধর্মীয় উপাসনার পাশাপাশি সামাজিক কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হবে।

তিনি আরও জানান, নিজের জীবনের সব আয় ব্যয় করে সমাজ ও ধর্মের জন্য কিছু রেখে যেতে চান বলেই এমন মহৎ উদ্যোগ নিয়েছেন। ২১৭ শতক জমির ওপর গত সাত মাস আগে শুরু হওয়া এই বিশাল মন্দির সম্পূর্ণভাবে তার ব্যক্তিগত অর্থায়নেই নির্মিত হচ্ছে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর