শুক্রবার, ১৩ই মার্চ ২০২৬, ২৯শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন
  • রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে উত্তাপ, মুখোমুখি সরকার–বিরোধী দল
  • ১৫ আগস্ট শোক দিবস বাতিল, বহাল থাকলো আগের সিদ্ধান্ত
  • নির্বাচন নিয়ে নতুন বিতর্ক, নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা
  • সংসদের সামনে এনসিপির অবস্থান, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন দাবি
  • বাংলাদেশের ওপরও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত
  • ইরান যুদ্ধে নতুন কৌশল, ‘প্ল্যান বি’তে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫

দেশের বৃহত্তম জলপ্রপাত মাধবকুণ্ডে পর্যটকদের আগ্রহ কমছে

মোঃ মাছুম আহমদ, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত:
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৮:১০

দেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক জলপ্রপাত মাধবকুণ্ডে পর্যটকদের আগ্রহ দিন দিন কমছে নানা সমস্যার কারণে। যোগাযোগ ব্যাহত, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও শিশুদের জন্য বিনোদনমূলক ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটনকেন্দ্রটি ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার পুরোনো আকর্ষণ।

সরাসরি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে,মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার কাঁঠালতলী বাজারের প্রবেশ মুখে তিনটি বিশাল গাছের কারণে বড় যানবাহনের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এসব গাছ বর্তমানে এলাকা ও পর্যটকদের জন্য "অভিশাপ" হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকার ১৯৯৮ সালে মাধবকুণ্ডকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করলেও দীর্ঘ তিন যুগ পরও এখানে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। ওয়াচ টাওয়ারসহ বিভিন্ন স্থাপনা আজ ক্ষয়ে গেছে, রং মলিন হয়ে পড়েছে। ২০১২ সালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে শিশুদের জন্য পশু-পাখির প্রদর্শনী চালু হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা প্রায় বিলুপ্তপ্রায়। বর্তমানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কিছু স্থাপনা রং করে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।

পর্যটকরা অভিযোগ করেছেন, আগে এখানে সাঁতার কাটা যেত, এখন শুধু দূর থেকে পানি দেখা ছাড়া কোনো কার্যক্রম নেই। শিশুদের জন্য নেই কোনো খেলাধুলার বা আনন্দ উপভোগের সুযোগ। তাদের মতে, ব্যক্তিগত মালিকানাধীন পার্কগুলোর মতো আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তুললে শুধু পর্যটকই আকৃষ্ট হতো না, সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পেত।

তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে আশার কথা শোনানো হয়েছে। দক্ষিণ ভাগ-উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলীম উদ্দিন জানিয়েছেন, শিশু পর্যটকদের জন্য দোলনা, পশু-পাখির প্রদর্শনী ও অন্যান্য বিনোদনমূলক স্থাপনা বাড়ানো হবে।

বড়লেখার সহকারী বন সংরক্ষক মো. রেজাউল মৃধা বলেন, “উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রবেশ মুখের গাছগুলো কেটে সড়ক পরিষ্কার করা হবে।”

একইসঙ্গে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, গাছ অপসারণসহ পর্যটক বান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া বন বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে রিটেনিং ওয়াল, ওয়াশব্লক নির্মাণ ও রাস্তার টাইলস সংস্কারের কাজ চলছে। শিশুদের জন্য খেলাধুলার স্থান এবং পার্কিং সুবিধা তৈরি করতে মাধছড়ার পাশে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

জনপ্রতিনিধি, সচেতন মহল, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকরা দ্রুত সময়ে মাধবকুণ্ডকে একটি আধুনিক ও পর্যটক বান্ধব কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জোর দাবি জানিয়েছেন।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর