শুক্রবার, ১৩ই মার্চ ২০২৬, ২৯শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন
  • রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে উত্তাপ, মুখোমুখি সরকার–বিরোধী দল
  • ১৫ আগস্ট শোক দিবস বাতিল, বহাল থাকলো আগের সিদ্ধান্ত
  • নির্বাচন নিয়ে নতুন বিতর্ক, নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা
  • সংসদের সামনে এনসিপির অবস্থান, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন দাবি
  • বাংলাদেশের ওপরও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত
  • ইরান যুদ্ধে নতুন কৌশল, ‘প্ল্যান বি’তে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫

সোনারগাঁয়ের ঐতিহাসিক নিদর্শন গোয়ালদী মসজিদ : ইসলামী স্থাপত্যের উজ্জ্বল সাক্ষ্য

রাসেল হোসাইন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

প্রকাশিত:
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪:৩৩

মুঘল আমলে রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরের পূর্বে সোনারগাঁ ছিল বাংলার অন্যতম রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। বার ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খান ও মুসা খানের শাসনকালসহ স্বাধীন সুলতানদের সময় সোনারগাঁও ছিল এক সমৃদ্ধ রাজধানী। এই রাজধানী শহর কেবল রাজনৈতিক দিক থেকেই নয়, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থাপত্যেও সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছিল। মুসলিম শাসকগণ এখানে রাজপ্রাসাদ ও রাজসভা ছাড়াও নির্মাণ করেছিলেন বহু মসজিদ, খানকা ও সমাধি।

তন্মধ্যে মোগড়াপাড়ায় অবস্থিত সুলতান গিয়াস উদ্দীন আজম শাহের প্রস্তরনির্মিত সমাধি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অপরদিকে সোনারগাঁয়ের আরেক উল্লেখযোগ্য প্রাচীন নিদর্শন হলো গোয়ালদি গ্রামে অবস্থিত এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ, যা মোল্লা হিজবার আকবর খান কর্তৃক ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত। এই মসজিদটি সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহের শাসনামলের (১৪১৩–১৫১৯ খ্রি.) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।

মসজিদের ভেতর ও বাইরের দেয়ালে ইট ও পাথরের উপর খোদাই করা আরবি লিপি ও অলংকরণ ইসলামি স্থাপত্যকলার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত। পশ্চিম দেয়ালের বিশেষত মিহরাবে এখনো প্রস্তর খচিত কারুকার্যের নিদর্শন পাওয়া যায়। কেন্দ্রীয় মিহরাবটি কালো প্রস্তরে নির্মিত এবং এর শৈল্পিক সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

প্রাচীন এই মসজিদটি অনেকটা পরিত্যক্ত হয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তখন সংলগ্ন উত্তর দিকে অবস্থিত আরেকটি এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদে নামাজ আদায় শুরু করে। ঐ মসজিদের দেয়ালে বিদ্যমান শিলালিপি থেকে জানা যায়, এটি আবদুল হামিদ কর্তৃক হিজরী ১১১৬ সালে (১৭০৫ খ্রিস্টাব্দে) নির্মিত হয়েছিল।

ঐতিহাসিক গোয়ালদি মসজিদকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ১৯৬৩ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক আইনের আওতায় সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে। পরবর্তীতে এর ধ্বংসপ্রাপ্ত অংশ পুনরুদ্ধার ও প্রয়োজনীয় মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে মসজিদটি ঐতিহ্যবাহী ইসলামী স্থাপত্যশৈলীর উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে সোনারগাঁয়ের গৌরব বয়ে চলেছে।

সোনারগাঁয়ের এইসব স্থাপত্যকীর্তি শুধু বাংলার ইসলামী ঐতিহ্যের সাক্ষ্য নয়, বরং এ অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক অমূল্য সম্পদ হিসেবেও বিবেচিত হয়।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর