শুক্রবার, ১৩ই মার্চ ২০২৬, ২৮শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন
  • রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে উত্তাপ, মুখোমুখি সরকার–বিরোধী দল
  • ১৫ আগস্ট শোক দিবস বাতিল, বহাল থাকলো আগের সিদ্ধান্ত
  • নির্বাচন নিয়ে নতুন বিতর্ক, নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা
  • সংসদের সামনে এনসিপির অবস্থান, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন দাবি
  • বাংলাদেশের ওপরও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত
  • ইরান যুদ্ধে নতুন কৌশল, ‘প্ল্যান বি’তে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫

চট্টগ্রাম ডিসি অফিসে স্বপনের রামরাজত্বে চলছে দুর্নীতির মহোৎসব

মো.মোক্তার হোসেন বাবু, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত:
১ অক্টোবর ২০২৫, ১৬:৪৮

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের রেভিনিউ মুন্সিখানা (আরএম) শাখার কর্মচারী স্বপন কুমার দাশের বিরুদ্ধে একের পর এক জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় তিন দশক ধরে চাকরির ভেতরে-বাইরে নানা অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন অঘোষিত সাম্রাজ্য। শুধু সরকারি চাকরিই নয়, আইন ব্যবসায় যুক্ত হয়ে সাধারণ মানুষকে কোটি টাকার ক্ষতির মুখে ফেলেছেন তিনি।

স্বপনের গ্রামের বাড়ি লোহাগাড়ার সুখছড়ি হলেও ১৯৯১ সালে তিনি কক্সবাজার পৌরসভার স্থায়ী বাসিন্দা পরিচয়ে চাকরিতে প্রবেশ করেন। বিধিমালা অনুযায়ী অন্য জেলার বাসিন্দার চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ না থাকলেও ভুয়া ঠিকানা দেখিয়ে সরকারি চাকরি হাতিয়ে নেন তিনি।

চাকরির শুরুতে টেকনাফে বদলি হওয়ার পর চট্টগ্রামে আসতে একাধিকবার আবেদন করেন স্বপন। তখন স্ত্রীকে বহুজাতিক কোম্পানির কর্মী ও স্কুলশিক্ষিকা পরিচয়ে ভুয়া তথ্য দেন তিনি। বিতর্কিত মতামতের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত ২০০৩ সালে চট্টগ্রামে বদলি হয়ে আসেন।

২০০৬ সালের জুন থেকে আজ পর্যন্ত আরএম শাখা ছাড়েননি স্বপন দাশ। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী টানা তিন বছরের বেশি একই পদে থাকা অবৈধ হলেও প্রভাবশালী এক সাবেক মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে তিনি দুই দশক ধরে শাখাটিকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন।

সরকারি চাকরি বিধি ভঙ্গ করে সক্রিয়ভাবে আইন ব্যবসা চালাচ্ছেন স্বপন দাশ। প্রবাসীদের দেওয়া ক্ষমতাপত্রে নানা অজুহাত দেখিয়ে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত হাতানোর অভিযোগ রয়েছে। এই কাজে তাকে সহযোগিতা করছে অফিসের ভেতরেই বসানো দালাল জাবেদ।

অভিযোগ আছে, দুর্নীতির টাকায় ভারতে বাড়ি করেছেন স্বপন। শুধু তাই নয়, সরকারি জমি লিজ, নিলাম, ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ও খাজনা আদায় সব ক্ষেত্রেই কমিশন বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। এমনকি হিলভিউ আবাসিকে সরকারি জমি হাতিয়ে দেওয়ার নেপথ্য কারিগরও স্বপন দাশ।

সেবাগ্রহীতারা জানান, স্বপন দাশ মামলার রায় গোপন রেখে সরকারের পক্ষে আপিল দায়ের করেন না। উল্টো কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কাগজপত্র জটিল করেন। এতে সাধারণ মানুষ যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি সরকারও বঞ্চিত হয় কোটি টাকার রাজস্ব থেকে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “স্বপন দাশ একাই নয়, ডিসি অফিসে আরও অনেকে বছরের পর বছর একই পদে বসে আছেন। প্রজ্ঞাপন থাকলেও বদলির নিয়ম এখানে কার্যকর হয় না।”

দুই দশক নামজারি বন্ধ রেখে হঠাৎ মাত্র দুই মাসে ১৭৮টি খতিয়ান সৃজন করেন স্বপন দাশ। অভিযোগ উঠেছে, এতে হাজার কোটি টাকার খাস জমি লুটপাটের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ভূমি অফিসের সহযোগিতায় হাউজিংয়ের নামে চট্টগ্রাম মহানগরীর হিলভিউ আবাসিকের ৪৬ একর জমি দখলের নেপথ্য কারিগরও তিনি।

এ বিষয়ে স্বপন কুমার দাশের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর