বৃহঃস্পতিবার, ১২ই মার্চ ২০২৬, ২৮শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন
  • রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে উত্তাপ, মুখোমুখি সরকার–বিরোধী দল
  • ১৫ আগস্ট শোক দিবস বাতিল, বহাল থাকলো আগের সিদ্ধান্ত
  • নির্বাচন নিয়ে নতুন বিতর্ক, নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা
  • সংসদের সামনে এনসিপির অবস্থান, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন দাবি
  • বাংলাদেশের ওপরও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত
  • ইরান যুদ্ধে নতুন কৌশল, ‘প্ল্যান বি’তে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫

সোনাইমুড়ীতে মাটি ব্যবসায়ীকে ইট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩ জন

মোহাম্মদ হানিফ, নোয়াখালী

প্রকাশিত:
২৫ অক্টোবর ২০২৫, ১৫:৪৭

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবুল কাশেম (৫০) নামে এক মাটি ব্যবসায়ীকে ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করেছে। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাইমুড়ী গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত আবুল কাশেম ওই এলাকার আবেদ ভূঁইয়া বাড়ির মৃত দুধ মিয়ার ছেলে।স্থানীয় ও নিহতের স্বজনদের বরাতে জানা যায়, কয়েক দিন আগে একই এলাকার যুবকদের মধ্যে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে শুক্রবার জুমার নামাজের পর সালিশ বৈঠকের কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিকেলে একই মাঠে পুনরায় খেলাধুলা চলাকালে পূর্বের বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও তর্কবিতর্ক শুরু হয়।

একপর্যায়ে জমিদার বাড়ির আবুল খায়ের মাস্টার, তার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও ওমর ফারুকসহ কয়েকজন; অন্যদিকে হাবিব উল্যা পশু ডাক্তার বাড়ির মাইন উদ্দিন ও তার ছেলে রাকিব সংঘবদ্ধভাবে আবুল কাশেম ও তার ছেলে সোহাগের ওপর চড়াও হয়। তারা সোহাগকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে এবং আবুল কাশেমকে ইট দিয়ে বুকে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহত কাশেমকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহতের ছেলে সোহাগ বলেন, বাবা মানুষকে শান্ত করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তারা উল্টো বাবাকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারে। ইট বুকে লাগার পর তিনি পড়ে যান, তারপরও তারা নির্মমভাবে মারতে থাকে।

এদিকে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ছোটখাটো বিষয়ে বিরোধ লেগে আছে। সামান্য বিষয় নিয়ে প্রাণহানি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বের বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর