বৃহঃস্পতিবার, ১২ই মার্চ ২০২৬, ২৭শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

প্রেমের টানে চীন থেকে ভোলায় খ্রিস্টান যুবক

মমিনুল ইসলাম শিবলু, ভোলা

প্রকাশিত:
১৭ নভেম্বর ২০২৫, ১৮:০০

অনলাইনে পরিচয়ের সূত্র ধরে ভোলার শিবপুর ইউনিয়নের কালিকির্তি গ্রামে ঘিরে উঠেছে এক অনন্য প্রেমকাহিনী। মাত্র এক বছরের ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব প্রেমে রূপ নেয় ফেরদৌস ও চীনা যুবক লুজাও চিং পং কং-এর। সেই প্রেমের টানে সুদূর চীনের চেংগু শহর থেকে বাংলাদেশের ছোট্ট গ্রাম কালিকির্তিতে ছুটে এসেছেন ৩০ বছর বয়সী এই খ্রিস্টান যুবক। প্রেমিকার হাতে হাত রেখে জীবনসঙ্গী হওয়ার আশায় তিনি প্রস্তুত ধর্ম পরিবর্তন করতেও।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) চীনা এই যুবক প্রেমিকা ফেরদৌসের বাড়িতে এসে উপস্থিত হন।

ফেরদৌসের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের কালিকির্তি গ্রামে। বাবা আমিন উল্লাহ মিয়া দিনমজুর। অভাব অনটনের কারণে মাত্র অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন ফেরদৌস (১৭)। এরপর নিয়মিত অনলাইন মাধ্যমে সময় কাটাতে শুরু করেন তিনি। সেখান থেকেই ওয়ার্ল্ডটক অ্যাপে পরিচয় হয় লুজাও চিং পং কং-এর সঙ্গে।

প্রথমে সাধারণ আলাপ, পরে ধীরে ধীরে গড়ে উঠে এক গভীর সম্পর্ক। একসময় দু’জনেই একে অপরের প্রতি আবেগী হয়ে পড়েন।

চীন থেকে ভোলার গ্রামে পৌঁছাতে চিং পং কং-এর সময় লেগেছে প্রায় দুই দিন। ভাষা-সংস্কৃতি-দূরত্ব পেরিয়ে এসে তিনি জানান, “আমি ফেরদৌসকে খুব ভালোবাসি। তার জন্য আমি আমার ধর্ম পরিবর্তন করতেও রাজি আছি। তাকে বিয়ে করে চীনে নিয়ে যেতে চাই।”

চিং পং কং আরও বলেন, ফেরদৌসের সঙ্গে দৈনিক ভিডিওকল ও চ্যাটের মাধ্যমে তাঁদের সম্পর্ক দৃঢ় হয়। অবশেষে বাস্তবে দেখা করতে এবং বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে তিনি সোমবার সকালে ফেরদৌসের বাড়িতে উপস্থিত হন।

ফেরদৌসের বয়স মাত্র ১৭। ফলে আইনগতভাবে এখনই বিয়ে সম্ভব নয়। তবে দুই পরিবারই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে বলে জানান ফেরদৌস।

ফেরদৌস বলেন, “এক বছর ধরে আমরা কথা বলছি। প্রথমে পরিবার রাজি ছিল না। পরে দুই পরিবারের মধ্যে কথা হলে সবাই মানতে শুরু করে।”

চীনা যুবককে সামনে পেয়ে ফেরদৌসের গ্রামে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ–উদ্দীপনা। প্রতিবেশীরা ভিড় করছেন বাড়িতে। কেউ বলছেন যুগের পরিবর্তন—অনলাইনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রেম এখন আর নতুন কিছু নয়। তবে কেউ কেউ আবার সন্দেহ প্রকাশ করে বলছেন এই সম্পর্ক হয়তো স্থায়ী নাও হতে পারে।

আমেনা আক্তার নামের এক প্রতিবেশী বলেন, “মেয়ে এখনো ছোট। আবার বিদেশি ছেলে। কতটা টিকবে বলা মুশকিল।”

অন্যদিকে অনেকে আবার দুই তরুণ-তরুণীর প্রেমকে ভালোবাসার এক নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

ফেরদৌসের বয়স পূর্ণ না হওয়ায় স্থানীয়ভাবে বিয়ে সম্ভব নয়। প্রশাসনও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে বলে স্থানীয়রা জানান। তবে দুই পরিবারই বলেছে, বয়স পূর্ণ হলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া ফেরদৌস ও চিং পং কং-এর ভালোবাসার গল্প এখন ভোলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দূরদেশি প্রেমিকের আগমনে পুরো গ্রাম যেন উৎসবমুখর। তবে বয়স, সংস্কৃতি ও আইনি জটিলতা কাটিয়ে এই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত বিবাহবন্ধনে গড়াবে কিনা—সেটিই এখন সবার আগ্রহের বিষয়।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর