রবিবার, ১৭ই মে ২০২৬, ৩রা জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
  • গুম-খুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সহায়তা চাইলে করা হবে : র‍্যাব ডিজি
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধার, তবে ইরান থেকে বের হতে পারেনি এখনো
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া : বিএনপি
  • ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় চমক’ আছে, সতর্কতা ইরানের
  • কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
  • আমেরিকা-চীন-রাশিয়া: পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

দেশের ১১৫৬ নদ-নদীর খসড়া তালিকা প্রকাশ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত:
১০ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৪:১৮

দেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত এক হাজার ১৫৬টি নদ-নদীর খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর পান্থপথে পানি ভবনে আয়োজিত বাংলাদেশের নদ-নদীর সংখ্যা নির্ধারণ অবহিতকরণ শীর্ষক সেমিনারে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসানের সভাপতিত্বে সেমিনারে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ আমিরুল হক ভূঞাসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান জানান, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের পর এই খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এটি জমির সিএস ও আরএসের মাধ্যমে হয়েছে।

এই তালিকায় ৩৬৫টি এমন নদীর নাম যুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো ২০১১ সালে বাপাউবোর প্রকাশ করা ৪০৫টি নদী এবং ২০২৩ সালে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রস্তুত করা এক হাজার আটটি নদীর তালিকায় ছিল না।

তিনি জানান, ২০১১ সালে বাপাউবো কর্তৃক প্রকাশিত ৪০৫টি নদীর তালিকায় থাকা ১৮টি নদী এবং ২০২৩ সালে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রকাশ করা এক হাজার আট নদীর তালিকায় থাকা ২২৪টি নদীর নাম পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তালিকায় রাখা হয়নি। এই বিষয়ে অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হবে।

আগামী পহেলা বৈশাখে নদ-নদীর এই তালিকা চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, এই খসড়া তালিকা প্রস্তুতের সঙ্গে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জড়িত। আমরা এখানে ভূমি মন্ত্রণালয়কেও যুক্ত করব। আমরা তিনটি মন্ত্রণালয় মিলে একসঙ্গে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে এই তালিকা চূড়ান্ত করে আমাদের ওয়েবসাইটে দিয়ে দিতে চাই।

তিনি আরও বলেন, যে নদীগুলোর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, সেগুলোর যদি রেকর্ড থাকে তাহলে ডিসিদের বলব, যাচাই করে আমাদের পাঠিয়ে দিতে। নদীর সংখ্যাটা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। পহেলা বৈশাখের মধ্যে নদীর সংখ্যার চূড়ান্ত তালিকা দিয়েই আমরা থেমে থাকব না। এরপর পর্যায়ক্রমে নদীর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, অবস্থাসহ অন্যান্য তথ্য সেই তালিকায় যুক্ত করা হবে। তালিকায় নদীর অফিশিয়াল নামের পাশাপাশি স্থানীয় নামও থাকবে।

মৃত নদী বলে কিছু নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রবাহহীন নদী বলা যায়, কিন্তু মৃত নদী বলার সুযোগ নেই। মৃত নদী বলেই ডিসিদের কেউ কেউ নদীকে লিজ দিয়ে ফেলেন। প্রবাহহীন নদীর প্রবাহ ফিরিয়ে আনার সুযোগ থাকে। কিন্তু মৃত ঘোষণা করলে নদীর জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এটা আমরা হতে দেব না।

তিনি আরো বলেন, আমরা হাওর ও বিলের তালিকা চূড়ান্ত করে ফেলেছি। এরপরে আমরা খালের তালিকা চূড়ান্ত করব। আজকে থেকে তিন মাসের মধ্যে ডিসিরা এই তালিকা করবেন।

সেমিনারে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অসম্ভব রকমের নদী দূষণ হচ্ছে। এই দূষণ যে শুধু ব্যবসায়ীরা করছে তা নয়, নদীর ভেতরে অনেক ড্রেজার ও ছোট ছোট জাহাজ ডুবে আছে। এভাবে নদীগুলো মরে যাচ্ছে। এগুলো উদ্ধার করতে হবে। নইলে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে চর পড়ে যাবে।

তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) ব্যবহার না করে যেসব কারখানার নদীর মধ্যে বর্জ্য ফেলছে, তাদের ড্রেনগুলো পাকা করে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নদী উদ্ধার করার এখনই সময়। অবৈধ বালুমহালগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। শুধু সংখ্যা দিয়ে বিবেচনা না করে নদীগুলো কী অবস্থায় আছে তা বিবেচনা করতে হবে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর