বুধবার, ১১ই মার্চ ২০২৬, ২৭শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

পুষ্টির বিচারে কোনটি সেরা রান্নার তেল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৮:০২

দৈনন্দিন রান্নায় তেল বা চর্বি এমন একটি অপরিহার্য উপাদান যা খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও গঠন—তিনটিকেই গভীরভাবে প্রভাবিত করে। কেবল স্বাদ বাড়ানোই নয়, শরীরে থাকা চর্বি-দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো গ্রহণ করতেও তেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বর্তমানে বাজারে জলপাই তেল, অ্যাভোকাডো তেল, ক্যানোলা তেল, নারিকেল তেল ও সূর্যমুখী তেলসহ হরেক রকমের তেল পাওয়া যায়। তবে স্বাস্থ্যের দিক থেকে এবং রান্নার উপযোগিতার বিচারে বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন জলপাই তেলকে, বিশেষ করে অতিরিক্ত বিশুদ্ধ বা এক্সট্রা ভার্জিন জলপাই তেল।

পুষ্টিবিদদের মতে, রান্নার তেল বাছাই করার সময় এর তাপীয় স্থিতিশীলতা এবং শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বা হজমে এর প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি। একটি আদর্শ তেলে উপকারী অসম্পৃক্ত চর্বি বেশি এবং ক্ষতিকর স্যাচুরেটেড চর্বি কম থাকা প্রয়োজন, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

তেলের গুণাগুণ বিচারে ‘স্মোক পয়েন্ট’ বা ধোঁয়া ওঠার তাপমাত্রা একটি বড় বিষয়। কম তাপমাত্রায় যেসব তেল ভেঙে যায়, সেগুলো দ্রুত পুড়ে গিয়ে শরীরের জন্য ক্ষতিকর উপাদানে পরিণত হতে পারে। এক্ষেত্রেও জলপাই তেল বেশ কার্যকর। অনেকে মনে করেন এটি শুধু সালাদে ব্যবহারের উপযোগী, তবে পুষ্টিবিদরা জানান যে উচ্চমানের জলপাই তেল ৩৫০ থেকে ৪১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে, যা সাধারণ রান্নার জন্য যথেষ্ট।

পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাতকরণের মাত্রাও খেয়াল রাখা উচিত। যান্ত্রিকভাবে কম তাপমাত্রায় নিষ্কাশিত তেলে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অক্ষুণ্ণ থাকে। এছাড়া ক্যানোলা বা সয়াবিন তেলের অতিরিক্ত ব্যবহার প্রদাহ বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে নারিকেল বা পাম তেলের মতো অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড চর্বি দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

সব মানদণ্ড বিচার করে দেখা গেছে, জলপাই তেলই সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। এতে থাকা প্রচুর পরিমাণ পলিফেনল শরীরে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি হিসেবে কাজ করে এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ও বিপাকক্রিয়া সচল রাখে। রান্নায় এর ব্যবহারও বেশ বহুমুখী।

শাকসবজি ভাজা, মাছ রোস্ট করা কিংবা সালাদে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পাস্তা বা নির্দিষ্ট কিছু মিষ্টান্ন তৈরিতেও এটি চমৎকার স্বাদ ও সতেজ গন্ধ যোগ করে। তবে তেলের গুণগত মান বজায় রাখতে এটি গাঢ় রঙের কাঁচের বোতলে এবং ঠান্ডা ও অন্ধকার স্থানে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।

তাই সুস্থ থাকতে এবং খাবারের পুষ্টিগুণ নিশ্চিত করতে ঘরে সবচেয়ে বেশি জলপাই তেল ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানীরা।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর